ভোটের সকালেই ঝরল রক্ত! চাপড়ায় বিজেপি এজেন্টের মাথা ফাটাল তৃণমূল? তুমুল উত্তেজনা নদিয়ায়

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বাংলার একাধিক জেলা থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করেছে। কোথাও বোমাবাজি, কোথাও আবার রাজনৈতিক কর্মীদের রক্তাক্ত হওয়ার খবর। বুধবার সকালে ভোট শুরুর আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার চাপড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়।
চাপড়ায় রক্তাক্ত বিজেপি এজেন্ট
নদিয়ার চাপড়া বিধানসভার ৫৩ নম্বর বুথে ব্যাপক উত্তেজনার খবর মিলেছে। অভিযোগ, ভোট শুরুর আগেই বিজেপি এজেন্ট মোশারফ মীর যখন বুথের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
লাঠির ঘায়ে মোশারফ মীরের মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্ত বিজেপি এজেন্ট সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন:
“আমরা ৫ জন যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তৃণমূলের ছেলেরা লাঠি নিয়ে আমাদের তাড়া করে। আমার মাথায় সরাসরি আঘাত করা হয়। বাকি ৪ জন কোথায় আছে আমি জানি না।”
অশান্ত ভাঙড়: কাঠগড়ায় শাসকদল
অন্যদিকে, ভোটের আগের রাত থেকেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। ১ নম্বর ও ২ নম্বর ব্লকের একাধিক জায়গা থেকে সংঘর্ষের খবর মিলেছে। ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের বিজয়গঞ্জ বাজার সংলগ্ন কোচপুকুর এলাকায় আইএসএফ কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভাঙড়ে দফায় দফায় আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন কর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এক নজরে অশান্তির চিত্র:
চাপড়া: বিজেপি এজেন্টের মাথা ফাটানোর অভিযোগ। ৫ জন কর্মী নিখোঁজ হওয়ার দাবি।
ভাঙড়: আইএসএফ কর্মীদের মারধর ও এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
বিজয়গঞ্জ বাজার: রাতভর বোমাবাজি ও বাইক বাহিনীর তাণ্ডবের অভিযোগ।
ভোটের প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও কেন এমন অশান্তি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।