“বিজেপিকে জেতাতেই এই অত্যাচার!” গভীর রাতে সিঙ্গুরে পুলিশের সাথে চরম সংঘাত তৃণমূল প্রার্থীর

দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক আগের রাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সিঙ্গুর। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় এবং মারধরের অভিযোগে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত রইল এই বিধানসভা কেন্দ্র। সিঙ্গুর থানার গেটের সামনে মাটিতে বসে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল প্রার্থী বেচারাম মান্না। অভিযোগের তির পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে।
থানা ঘেরাও ও বেচারামের হুঁশিয়ারি
মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সিঙ্গুর থানার সামনে পৌঁছান বেচারাম মান্না। তাঁর অভিযোগ, বিনা কারণে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলকে তুলে নিয়ে এসে আটকে রেখেছে পুলিশ। থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে দেখাতে বেচারাম বলেন:
“সোমবার রাত থেকেই বেছে বেছে আমাদের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিজেপিকে জেতানোর লক্ষ্যেই এই ষড়যন্ত্র। যার নামে কোনো অভিযোগ নেই, তাকেও কেন থানায় আনা হলো? যতক্ষণ না ছাড়া হবে, আমরা সরব থাকব।”
দীর্ঘক্ষণ টানাপড়েনের পর শেষমেশ গভীর রাতে অঞ্চল সভাপতিকে ছেড়ে দিলে বিক্ষোভ তুলে নেয় ঘাসফুল শিবির।
আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী: ৩টি সেলাই হাতে!
এদিকে সিঙ্গুরের বুড়িগ্রাম এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আহত কর্মীর নাম সনৎ কুমার ধারা। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির বাইরে বসে থাকা অবস্থায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে অকারণে মারধর করে। আক্রান্ত কর্মীর কথায়:
“আমার ঘর ভাঙা, ভেতরে বিদ্যুৎ নেই। তাই বাড়ির বাইরে বসেছিলাম। কেন বসে আছি জিজ্ঞাসা করেই ওরা মারতে শুরু করে।”
আহত সনৎ বাবুকে সিঙ্গুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁর হাতে তিনটি সেলাই পড়েছে। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে তাঁকে দেখতে ছোটেন প্রার্থী বেচারাম মান্না।
ভোটের সকালে সিঙ্গুরের মেজাজ
ভোট শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি প্রভাব ফেলেছে জনমানসে। একদিকে তৃণমূল যেখানে প্রশাসন ও বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে সরব, অন্যদিকে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গুরের এই রাতভর উত্তেজনা আজ ভোটের বুথে কোনো বড় প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই দেখার।