“নির্বাচন নয়, গায়ের জোর চলছে!” ভোট দিয়েই কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দক্ষিণ কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউটে সকাল সকাল নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই তাঁর মেজাজ ছিল তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক বা অবজারভারদের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিনি।

“অবজার্ভাররা এক্তিয়ার লঙ্ঘন করছেন”: অভিষেক
ভোট দিয়ে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর মূল নিশানায় ছিলেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা জনৈক এক আধিকারিক। অভিষেক বলেন:

“নির্বাচন কমিশনের রুল বুক মেনে কাজ করছেন না পর্যবেক্ষকরা। কোনো গাইডলাইনে বলা নেই যে অবজারভাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেইড করবেন। তাঁদের কাজ হলো রিপোর্ট দেওয়া, কিন্তু তাঁরা তৃণমূল কর্মীদের ধমকাচ্ছেন-চমকাচ্ছেন।”

আইনি ধারার উল্লেখ করে তোপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ঢঙে বলেন যে, সিআরপিসি (CrPC) বা বর্তমান বিএনএস (BNS)-এর কোনো ধারাতেই অবজারভারদের সরাসরি এভাবে পুলিশি কায়দায় শাসানোর ক্ষমতা দেওয়া নেই। তাঁর দাবি, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো পুরনো মামলা নেই, সেইসব পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে।

বিজেপিকে কড়া হুঙ্কার
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী অভিষেক। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘গায়ের জোরে’ ভোটার তালিকা থেকে ৩০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেও তিনি বলেন:

“প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়ে গিয়েছে।”

“এই দ্বিতীয় দফায় ওদের দফারফা হবে।”

“ব্যালট খুললে দেখা যাবে, তৃণমূল আরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে।”

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিষেকের এই সরাসরি তোপ দাগার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই দিনে পুলিশ ও অবজারভারদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তখন অভিষেকের এই বক্তব্য তৃণমূলের আক্রমণাত্মক রণকৌশলকেই স্পষ্ট করে দিল।