“উন্নত বাংলা গড়তে ওপার বাংলাকেও চাই!” ভোটের মুখে বিস্ফোরক অযোধ্যার সাধুরা, মমতাকে কড়া আক্রমণ!

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘উন্নত বাংলা’ গড়ার আহ্বানের পর এবার সেই সুরেই সুর মেলালেন অযোধ্যার সাধু-সন্তরা। তৃণমূল সরকারের ‘অপশাসন’ থেকে মুক্তি পেতে এবং এক ঐতিহাসিক ‘সোনার বাংলা’ পুনরুদ্ধারে বাংলার ভোটারদের বিশেষ বার্তা দিলেন তাঁরা।

“তৃণমূলের অরাজকতা থেকে মুক্তিই লক্ষ্য”

সাকেত ভবনের প্রধান সীতারাম দাস জি মহারাজ সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, “পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটের মূল উদ্দেশ্যই হলো তৃণমূলের অপশাসন ও অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়া। বাংলার মানুষ শান্তি চায়।” ### বিস্ফোরক দাবি: “উন্নত বাংলার জন্য বাংলাদেশকেও প্রয়োজন” বিপ্লবী সাধু হিসেবে পরিচিত বরুণ দাস জি মহারাজ এক চাঞ্চল্যকর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ১৯৫০ সালের আগের সেই সমৃদ্ধশালী ‘সোনার বাংলা’ ফিরে পেতে হলে দুই বাংলাকে এক করা প্রয়োজন। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য মন্তব্য:

  • অখণ্ড বাংলার স্বপ্ন: সত্যিকারের ‘উন্নত বাংলা’ গড়তে হলে পশ্চিমবঙ্গ ও বর্তমান বাংলাদেশকে এক হতে হবে। ভারত সরকার যদি ওপার বাংলাকে সঙ্গে আনতে পারে, তবেই পূর্ণতা পাবে এই স্বপ্ন।

  • সাংস্কৃতিক দহন: অনুকূল ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মভিটে কেন পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেই কষ্ট আজও প্রত্যেক বাঙালির মনে সুপ্ত আছে।

  • নামের সার্থকতা: আজও এই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রয়ে গেছে শুধুমাত্র ওই ঐতিহাসিক সত্যকে মনে করিয়ে দিতে যে, এর একটি পূর্বাংশও ছিল।

বিপ্লবের আঁতুড়ঘর যখন বাংলা

সাধু বরুণ দাস মনে করিয়ে দেন, বাংলা মা চণ্ডী ও মা দুর্গার দেশ। যে মাটি থেকে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বজয়ের ডাক দিয়েছিলেন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই মাটির নির্বাচন আজ গোটা দেশের নজর কেড়েছে। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা দেশ।

অযোধ্যার সাধুদের এই রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থান দ্বিতীয় দফার ভোটে বিজেপি-র পক্ষে কতটা হাওয়া তোলে, এখন সেটাই দেখার।