হোয়াটসঅ্যাপ খুলতেই বড় চমক! ৯ হাজার অ্যাকাউন্ট ডিলিট করল সংস্থা, এবার সিম সরালেই বন্ধ হবে চ্যাট?

আপনি কি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন? তাহলে সাবধান! দেশজুড়ে বাড়তে থাকা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা রুখতে এবার রণংদেহি মেজাজে মেটা-র মালিকানাধীন এই মেসেজিং অ্যাপ। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৯,৪০০টি সন্দেহভাজন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

কেন এই গণ-অ্যাকাউন্ট বাতিল?

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই গত ১২ সপ্তাহে এই বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে:

  • জালিয়াতি শনাক্তকরণ: ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে একটি বিশেষ তদন্ত অভিযান শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ।

  • নেটওয়ার্ক ম্যাপিং: সন্দেহজনক সিগন্যাল শনাক্ত করে পুরো প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকা অ্যাকাউন্টগুলোকে একযোগে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আসছে কড়া সুরক্ষা কবচ: বদলে যাচ্ছে নিয়ম

ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা দিতে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিকম বিভাগ একগুচ্ছ নতুন ফিচার আনতে চলেছে:

  • সিম সরালেই হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ: এবার থেকে অ্যাপটি শুধুমাত্র সেই ডিভাইসেই কাজ করবে, যেখানে বৈধ ও KYC করা সিম কার্ড থাকবে। সিম কার্ড সরালে বা বদলালে হোয়াটসঅ্যাপ সঙ্গে সঙ্গে লগ-আউট হয়ে যাবে।

  • পুলিশের লোগো ব্যবহারে কোপ: প্রোফাইল পিকচারে সরকারি বা পুলিশের প্রতীক ব্যবহার করলেই সেই অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়া হবে।

  • সতর্কবার্তা: নতুন নম্বর থেকে ফোন এলে ব্যবহারকারীকে বিশেষভাবে সতর্ক করবে অ্যাপ। এমনকি সন্দেহভাজন নম্বরের ডিপি (DP) লুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তৎপর সিবিআই ও টেলিকম বিভাগ

রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনো প্রতারণায় ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হলে সরাসরি তদন্তে নামবে সিবিআই। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি প্রতারণা মামলার তদন্ত শুরু করেছে তারা। এছাড়া সন্দেহজনক সিম কার্ড শনাক্ত হওয়ার মাত্র ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে তা ব্লক করার প্রযুক্তি তৈরি করছে বিশেষ কমিটি। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অনলাইন প্রতারকদের দৌরাত্ম্য কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার, আরবিআই এবং হোয়াটসঅ্যাপের এই যৌথ অভিযান আমজনতার সুরক্ষায় এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে।