‘লড়ে হারাব মমতাকে!’ ভবানীপুরে জয়ের ফর্মুলা ফাঁস করলেন শুভেন্দু, ভোটের আগের রাতে তুঙ্গে উত্তেজনা!

ভোটের বাংলায় কাল চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে উত্তাপ বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পর এবার খাস ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বা কমিশন নয়, সাধারণ মানুষের সমর্থনই তাকে জেতাবে।
‘লক্ষ্য একটাই—মমতাকে হারানো’ ভবানীপুর থেকে এবারের লড়াই শুভেন্দুর কাছে অত্যন্ত সম্মানের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনের বিদায়ী বিধায়ক হলেও, ২০২১-এ নন্দীগ্রামে হারের স্মৃতি এখনও টাটকা। শুভেন্দুর কথায়:
“আমি নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ভরসা করে লড়ছি না। সাধারণ মানুষ আর কর্মীদের পাশে নিয়ে লড়ে কাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাব।”
বড় দাবি মুসলিম ভোট ও হিন্দু ভোটারদের নিয়ে: শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে এবার হিন্দু ভোটারদের মধ্যে নজিরবিহীন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। প্রথম দফায় ৯৩% হিন্দু ভোট পড়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “শিক্ষিত মুসলিম সমাজও এবার বদল চাইছে। যাঁরা ‘বন্দে মাতরম’ বলতে কুণ্ঠা বোধ করেন না, তাঁরা বিজেপিকেই বেছে নেবেন।” গুজরাটের মুসলিম-প্রধান ওয়ার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি সংখ্যালঘু ভোট প্রাপ্তির বিষয়েও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন।
বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে শুভেন্দু বল ঠেলে দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোর্টে। তিনি অমিত শাহের কথার পুনরুল্লেখ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই রাজ্যেরই কোনো ভূমিপুত্র। আমার লক্ষ্য পদ নয়, লক্ষ্য হলো এই সরকারকে সরানো।” নারী সুরক্ষা এবং বেকারত্বকে হাতিয়ার করে বিজেপি এবার ১৭০টির বেশি আসন পাবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
-
ভোটের নির্ঘণ্ট: ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলপ্রকাশ।
-
শুভেন্দুর লড়াই: এবার তিনি নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই লড়ছেন।
-
বিরোধীদের দাবি: প্রথম দফার উচ্চ হার (৯৩.১৯%) শাসকদলের পতনের ইঙ্গিত বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।