বিশ্বের তেল বাজারে মহাপ্রলয়! ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত, ট্রাম্পের বড় জয়?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ‘ওপেক’ (OPEC) এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। বৈশ্বিক তেল সংকটের এই সন্ধিক্ষণে আবুধাবির এমন সিদ্ধান্ত কার্যত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল।

“আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম” সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আগাম আলোচনা করা হয়নি। আমিরাত সরকারের মতে, তাদের উৎপাদন নীতি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে বাজারের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতেই এই চরম পদক্ষেপ।

কেন এই বিচ্ছেদ?

  • ইরান যুদ্ধ ও তেলের সংকট: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের উৎপাদন কোটা মেনে চলা আমিরাতের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

  • ট্রাম্পের ‘বিজয়’: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ‘লুট’ করার অভিযোগ তুলে আসছেন। আমিরাতের এই প্রস্থান ট্রাম্পের জন্য বড় কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি রাশিয়া ও সৌদি আরবের আধিপত্য খর্ব করতে চান।

  • অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: গালফ কাউন্সিলের (GCC) দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং উৎপাদন সীমা নিয়ে অসন্তোষ এই বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ।

ওপেক-এর ভবিষ্যৎ কী? ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটটি বিশ্বের তেল সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো এই জোটে প্রধান শক্তি। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো একটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ বেরিয়ে যাওয়ায় ওপেকের একক আধিপত্য এখন খাদের কিনারে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি জোটের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন বাড়াতে শুরু করে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে, তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।