“আপনাদের আয়ু ৪ তারিখ পর্যন্ত!” প্রকাশ্য রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে চরম হুঁশিয়ারি ফিরহাদ হাকিমের

ভোটের আবহে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ালেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মধ্যরাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে জওয়ানদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি বিস্ফোরক সব দাবি করলেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “আপনাদের আয়ু ৪ তারিখ পর্যন্ত!”

কী ঘটেছিল সেই রাতে?

ফিরহাদ হাকিমের দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই মধ্যরাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে রাস্তায় নামানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের এই আচরণকে ‘হেনস্তা’ ও ‘অপমান’ হিসেবেই দেখছেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, “আমি কলকাতার মেয়র, রাজ্যের মন্ত্রী। ৫০ বছর ধরে রাজনীতি ও সমাজসেবা করছি। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় থ্রেট করা হবে, এটা আগে কোনোদিন দেখিনি।”

ছাপ্পা ভোট ও ইস্তফার চ্যালেঞ্জ

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের খতিয়ান তুলে ধরেন ফিরহাদ। তিনি বলেন:

“আমি ২৫ বছর ধরে কাউন্সিলর। এখানে সব দলের মানুষ মিলেমিশে ভোট দেয়। একটাও ছাপ্পা ভোট পড়ে না। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, তবে আমি আজই রেজিগনেশন (ইস্তফা) দেব।”

এই বক্তব্যের মাঝেই এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মন্তব্য করেন যে, কোনো গোলমাল হলে মেয়র বিপাকে পড়বেন। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফিরহাদ। মেজাজ হারিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে আপনারা কী মুশকিলে ফেলবেন? আপনাদের আয়ু তো ৪ তারিখ পর্যন্ত!”

কাশ্মীর ও নকশাল আমলের প্রসঙ্গ

এদিন কেন্দ্রের শাসকদল ও বাহিনীকে আক্রমণ করতে গিয়ে পুরনো স্মৃতি টেনে আনেন মেয়র। বর্তমান পরিস্থিতিকে নকশাল আমলের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “রাস্তায় বুটের আওয়াজ, সাঁজোয়া গাড়ি—সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই সক্রিয়তা যদি সেদিন কাশ্মীরে দেখা যেত, তবে আমার বাংলার দুই বাঙালি প্রাণ বাঁচত।”

ভোটে প্রভাব ও কমিশনের ভূমিকা

ফিরহাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘অত্যাচারে’ পাড়ার মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এর প্রভাব ইভিএমে পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি যা-ও বা কয়েকটা ভোট পেত, এবার সেটাও পাবে না।” তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এই হেনস্তার অভিযোগ তুললেও, আপাতত নির্বাচন কমিশনে কোনো লিখিত অভিযোগ জানাননি বলেই খবর।