বিশেষ: কবে পড়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা? এক নজরে জানুন দিনক্ষণ ও উপাসনার নিয়ম

শান্তি, মৈত্রী এবং অহিংসার মূর্ত প্রতীক ভগবান বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী সমাগত। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মমতে ভগবান বিষ্ণুর নবম অবতার হিসেবে বুদ্ধ পূর্ণিমা বা ভেসক উৎসব বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। ২০২৬ সালে এই বিশেষ দিনটি পালিত হবে ১ মে। বৈদিক সাহিত্য ও শাস্ত্র মতে, এই পবিত্র দিনে স্নান ও দানের মাহাত্ম্য অপরিসীম।

বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৬: তিথি ও শুভ সময়

পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর বৈশাখী পূর্ণিমার তিথি শুরু হচ্ছে ৩০ এপ্রিল থেকে। তবে উদয়া তিথি মেনে প্রধান উৎসব ও স্নান-দান পালিত হবে ১ মে।

  • পূর্ণিমা শুরু: ৩০ এপ্রিল, রাত ৮:২৭ মিনিটে।

  • পূর্ণিমা শেষ: ১ মে, রাত ৯:৩৭ মিনিটে।

স্নান ও দানের মহেন্দ্রক্ষণ: ‘রাক্ষস স্নান’ এড়িয়ে চলুন

শাস্ত্র মতে, বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান করা অত্যন্ত শুভ।

  • শুভ মুহূর্ত: ভোর ৪:১৫ মিনিট থেকে ৪:৫৮ মিনিট পর্যন্ত (মোট ৪৩ মিনিট)।

  • সতর্কতা: এই নির্দিষ্ট সময়ের পর স্নান করাকে শাস্ত্রে ‘রাক্ষস স্নান’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাই পুণ্য অর্জনে ব্রহ্ম মুহূর্তেই স্নান সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী দান করবেন?

বুদ্ধ পূর্ণিমায় অভাবীদের সাহায্য করলে বহুগুণ পুণ্য লাভ হয়। এদিন অন্নদান ও বস্ত্রদানকে শ্রেষ্ঠ বলে মানা হয়। আপনি চাল, ডাল, আটা, লবণ, সবজি বা যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পোশাক দান করতে পারেন। পবিত্র নদীতে স্নানের পর এই দান করা অধিক ফলপ্রসূ।

উপাসনার বিশেষ নিয়ম

  • প্রসাদ: ভগবান বুদ্ধকে এদিন সাদা ক্ষীর বা পায়েস নিবেদন করা হয়। পরে সেই প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা শুভ।

  • আচার: মন্দির দর্শন, মোমবাতি বা প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ধ্যান ও শান্তি কামনায় ব্রতী হন ভক্তরা। বুদ্ধগয়ার মহাবোধি বৃক্ষের নিচে সিদ্ধার্থের নির্বাণ লাভের স্মৃতিতেই এই উৎসব বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বুদ্ধের চিরন্তন শিক্ষা: পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ

গৌতম বুদ্ধের দেওয়া পঞ্চশীল নীতি আজও মানবজীবনের দুঃখ দূর করার মহৌষধি। তিনি শিখিয়েছেন— প্রাণিহত্যা না করা, চুরি থেকে বিরত থাকা, ব্যাভিচার বর্জন, মিথ্যা না বলা এবং মাদক সেবন না করা।

পাশাপাশি তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ: সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সঙ্কল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রযত্ন, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি। এই পথ অনুসরণ করলে মানুষ নির্বাণের পথে এগিয়ে যেতে পারে।