“ভারতীয় হলেও লাগবে বিশেষ অনুমতি!”-ঘুরতে যাওয়ার আগে পকেটে রাখুন এই জরুরি কাগজ!

চড়া রোদে হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে বাঁচতে গরমের ছুটি পড়লেই বাঙালির পাহাড়ে যাওয়ার ধুম পড়ে। তবে এবার চেনা ছকের বাইরে যদি শিমলা, মানালি বা মুসৌরির বদলে নতুন কোথাও যাওয়ার কথা ভাবেন, তবে সাবধান! ভারতেরই এমন কিছু মায়াবী জায়গা আছে যেখানে নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আপনার প্রবেশাধিকার অবাধ নয়। স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে ওই সব এলাকায় যেতে গেলে আপনাকে পকেটে রাখতে হবে ইনার লাইন পারমিট (ILP)।
জেনে নিন কোন কোন জায়গায় যাওয়ার আগে এই বিশেষ অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক:
১. অরুণাচল প্রদেশ: সীমান্তের রহস্যময় সৌন্দর্য
চিন সীমান্তের কাছে হওয়ায় অরুণাচল ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা তাওয়াং, জিরো ভ্যালি বা বুমলা পাসের মতো জায়গাগুলো দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই আইএলপি নিতে হবে। এটি কেবল পর্যটকদের সুরক্ষাই দেয় না, স্থানীয় আদিবাসীদের জীবনধারাকেও সুরক্ষিত রাখে।
২. সিকিমের সীমান্ত এলাকা
সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক ঘুরতে বাধা নেই, তবে উত্তর সিকিমের নাথু লা পাস, সোমগো লেক বা গুরুদংমার লেকের মতো এলাকায় যেতে হলে পারমিট মাস্ট। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই এলাকাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কড়া নজরদারি থাকে প্রশাসনের।
৩. লাদাখ: রোড ট্রিপের আগে সতর্কতা
দুঃসাহসিক অভিযান প্রেমীদের প্রথম পছন্দ লাদাখ। তবে প্যাংগং লেক, নুব্রা ভ্যালি কিংবা সো মোরিরি লেক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এখনই অনলাইন থেকে ইনার লাইন পারমিট সংগ্রহ করে রাখুন। অফলাইনের চেয়ে এখন অনলাইনে পারমিট পাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে।
৪. নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম
উত্তর-পূর্বের এই দুই রাজ্য তাদের অনন্য উপজাতীয় সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। এখানকার স্থানীয় জনজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখতে বাইরের মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ফলে অনুমতি ছাড়া এই দুই রাজ্যে পা রাখা নিষিদ্ধ।
৫. লাক্ষাদ্বীপ ও আন্দামান
পাহাড় ছেড়ে সমুদ্র চাইলে লাক্ষাদ্বীপ সেরা বিকল্প। কিন্তু এখানকার বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পর্যটকদের পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে আন্দামানের উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপের মতো কিছু জায়গায় মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যাতে সেখানকার আদিবাসীদের জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।
পারমিট কি ঘোরার পথে বাধা?
মনে হতে পারে পারমিট নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ঝামেলার, কিন্তু আদতে এটি পর্যটকদের জন্যই সুবিধাজনক। এই নিয়মের কারণেই এই জায়গাগুলো আজও কলুষিত হয়নি এবং তাদের আদিম সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রেখেছে।