ভোটের আগেই ‘সাদা থান’ ও মৃত্যুহুমকি! হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপি নেতাদের দরজায় হাড়হিম করা কায়দায় শাসানি

উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে শেষ দফার ভোটের আগে ফিরল কয়েক দশকের পুরনো এক হাড়হিম করা আতঙ্ক। বিজেপি নেতাদের বাড়ির দরজার সামনে থেকে উদ্ধার হলো মৃতদেহ সৎকারে ব্যবহৃত সাদা থান কাপড়, সিঁদুর, জবা ফুল এবং তুলো। শুধু সামগ্রীই নয়, সঙ্গে মিলল একটি চিরকুট, যাতে স্পষ্ট লেখা— “এবার বলো হরি হরি বোল করে দেব।”
রাতের অন্ধকারে ‘মৃত্যুর পরোয়ানা’
ঘটনাটি ঘটেছে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার ভবানীপুর-১ এলাকায়। বিজেপির বুথ সভাপতি দুলালচন্দ্র মণ্ডল এবং স্থানীয় বিজেপি নেতা গৌড় বাউরিয়ার বাড়ির সামনে রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা এই সামগ্রীগুলো ফেলে রেখে যায়। সাতসকালে দরজায় এমন দৃশ্য দেখে কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছে ওই দুই পরিবার।
বিজেপির তোপ বনাম তৃণমূলের পাল্টা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাদানুবাদ:
বিজেপির দাবি: বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকারের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর দাবি, হিঙ্গলগঞ্জের মানুষ ইভিএমে এর যোগ্য জবাব দেবে।
তাত্পর্যপূর্ণ মন্তব্য: বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, “তৃণমূলের তেলের প্রদীপ এখন নেভার মুখে, তাই নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে ওঠার চেষ্টা করছে।”
তৃণমূলের অস্বীকার: হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পালটা দাবি, “সহানুভূতি পাওয়ার জন্য বিজেপি নিজেরাই এই নাটক সাজাচ্ছে। যারা জনসভায় বুলডোজার চালানোর হুমকি দেয়, এই সংস্কৃতি তাদেরই মানায়।”
বাম আমলের সেই ভয়ংকর স্মৃতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলায় বাম আমলের শেষ দিকে বিরোধী নেতাকর্মীদের দমানোর জন্য এই ‘সাদা থান’ পাঠানোর প্রথা অত্যন্ত পরিচিত ছিল। এবার ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ ভোটের আগে সেই একই ‘আতঙ্ক’ ফিরে আসায় রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
উত্তপ্ত হিঙ্গলগঞ্জ, মোতায়েন পুলিশ
ঘটনার খবর ছড়াতেই ভবানীপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মনেও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।