২৬ বছর ক্লার্কের চাকরি, ৬৬-তে এসে ডেলিভারি বয়! আহমেদাবাদের দীনেশ দাদুর কাণ্ড দেখে তাজ্জব নেটপাড়া

কথায় আছে, স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স হয় না। আর সেই কথাকেই নতুন করে প্রমাণ করলেন আহমেদাবাদের ৬৬ বছর বয়সী প্রবীণ নাগরিক দীনেশ মহন্ত ঠাকুরদাস। অবসরের পর যখন মানুষ আরামদায়ক জীবন খোঁজেন, তখন দীনেশ বাবু বেছে নিয়েছেন এক কঠিন কিন্তু রোমাঞ্চকর পথ।

বিমা সংস্থার ক্লার্ক থেকে ডেলিভারি বয়
দীর্ঘ ২৬ বছর একটি নামী বিমা সংস্থায় ক্লার্ক হিসেবে কাজ করার পর অবসর নিয়েছিলেন দীনেশ। কিন্তু ঘরে বসে সময় কাটানো তাঁর ধাতে নেই। একদিন পাড়ার এক ডেলিভারি বয়কে দেখে কৌতূহল জাগে তাঁর। ব্যাস! ৬৬ বছর বয়সে কাঁধে তুলে নিলেন ডেলিভারি ব্যাগ। গত দুই বছরে তিনি ১০,২২০টিরও বেশি ডেলিভারি সম্পন্ন করে এক অনন্য নজির গড়েছেন।

ভোর ৫টায় শুরু লড়াই
বয়সকে তুড়ি মেরে প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন দীনেশ। সকাল ৬টার মধ্যে পৌঁছে যান স্টোরে। টানা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে তাঁর কাজ। এরপর শরীরের অবস্থা বুঝে নেন বিশ্রাম। এই বয়সে এই হাড়ভাঙা খাটুনি কেন? এর পেছনে নেই কোনো আর্থিক অভাব, বরং আছে এক আকাশ সমান স্বপ্ন।

নিজের টাকায় বিশ্বভ্রমণ
দীনেশ বাবুর দীর্ঘদিনের শখ দেশ-বিদেশ ঘুরে দেখার। আর সেই ভ্রমণের খরচ জোগাতেই তিনি এই ডেলিভারির কাজ বেছে নিয়েছেন। নিজের উপার্জিত প্রতিটি টাকা তিনি জমাচ্ছেন নতুন নতুন শহর ও দেশ দেখার জন্য। তাঁর সাফ কথা, “অভিজ্ঞতাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক।”

অনুপ্রেরণার আরও দুই নাম: ফৌজা সিং ও বলদেব সিং
দীনেশের এই অদম্য জেদ মনে করিয়ে দিচ্ছে কিংবদন্তি ম্যারাথনার ফৌজা সিং-এর কথা। ৮৯ বছর বয়সে দৌড় শুরু করে যিনি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই পথ অনুসরণ করেই এবার ৮০ বছর বয়সে লন্ডন ম্যারাথনে নামছেন বলদেব সিং বেইনস।

সম্পাদকের কলম থেকে:
দীনেশ বা ফৌজা সিং-দের মতো মানুষেরা প্রমাণ করে দেন যে, শরীর বুড়ো হলেও মন যদি সতেজ থাকে, তবে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। আপনার স্বপ্নপূরণে বাধা কেবল আপনার ইচ্ছাশক্তি।