“ধিক্কার জানাই এই নির্লজ্জ পার্টিকে!”-রত্নার এক ডাকেই কি চড়াও বিজেপি? পানিহাটিতে বাম-বিজেপি সংঘর্ষে তুঙ্গে বিতর্ক

ভোটের শেষ লগ্নে এসে ফের উত্তপ্ত পানিহাটি। আরজি কর নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। বিজেপি প্রার্থীর ‘উস্কানিতে’ বাম প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালানো এক তরুণী ও তাঁর বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠল গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত তরুণী।
ঠিক কী ঘটেছিল সোমবার?
সোমবার দুপুরে পানিহাটির মহাজাতি সেন্ট্রাল মোড়ে বিজেপির একটি পথসভা চলছিল। মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন রত্না দেবনাথ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের সমর্থনে একটি প্রচার টোটো ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। টোটোতে একটি ভাইরাল গান বাজছিল। অভিযোগ, টোটোটি সামনে আসতেই মেজাজ হারান রত্না দেবনাথ। মাইকে তিনি বলে ওঠেন, “ধিক্কার জানাই এই নির্লজ্জ সিপিএম পার্টিকে।”
তরুণীর ওপর হামলার অভিযোগ
টোটোতে থাকা সিপিএম কর্মী সুরজিৎ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর ২১ বছরের কন্যা শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রত্না দেবনাথের এই মন্তব্যের পরেই বিজেপি কর্মীরা তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শ্রীলেখার দাবি:
-
টোটোর সামনে থাকা কলতান দাশগুপ্তের পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয়।
-
মাইকের তার খুলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি সমর্থকরা।
-
এমনকি শ্রীলেখার গায়েও হাত দেওয়া হয় এবং তাঁকে ও তাঁর বাবাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
আক্রান্ত তরুণীর প্রশ্ন, “আরজি কর নির্যাতিতার মা হয়ে উনি নারী সুরক্ষার কথা বলছেন, অথচ তাঁর উস্কানিতেই বহিরাগত বিজেপি কর্মীরা এক তরুণীর গায়ে হাত দিল?”
সিপিএম প্রার্থীর কড়া প্রতিক্রিয়া
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। তাঁর দাবি, “নারী নিরাপত্তার কথা বললেও বিজেপি যে আসলে কতটা নারীবিদ্বেষী, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।” খড়দহ থানায় বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বাম শিবির।
কী বলছেন রত্না দেবনাথ?
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। তাঁর পাল্টা দাবি, শুরু থেকেই তৃণমূল এবং সিপিএম পরিকল্পনা করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এদিনও ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দিয়ে তাঁর সভার কাছে গান বাজানো হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভোটের ঠিক আগে খাস পানিহাটিতে নারী সুরক্ষা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নারী নিগ্রহের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের মধ্যেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।