আমেরিকান কার্ডে ৯৫ কোটির ‘সিক্রেট’ ফান্ড! ইডির হানায় পর্দাফাঁস বিদেশি মিশনারি চক্রের, তদন্তে মাওবাদী যোগ?

সাধারণ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের চোখে ধুলো দিয়ে ভারতে বিদেশি অর্থের পাহাড় গড়ে তোলার এক ভয়ংকর ছক ফাঁস করল ইডি। আন্তর্জাতিক মিশনারি নেটওয়ার্ক ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (TTI)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রায় ৯৫ কোটি টাকা ভারতে পাচার করেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই টাকার একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হয়েছে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে।

কীভাবে চলত এই অপারেশন?
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এই চক্রটি প্রচলিত বিদেশি অনুদান আইন (FCRA)-কে পুরোপুরি এড়িয়ে চলেছিল। বিদেশ থেকে নিয়ে আসা আমেরিকার ‘ট্রুইস্ট ব্যাঙ্ক’-এর ২৫টি ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভারতীয় এটিএম থেকে বারবার নগদ টাকা তোলা হতো। ২০২৫-এর নভেম্বর থেকে ২০২৬-এর এপ্রিলের মধ্যে এই পদ্ধতিতে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। ইডির তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই নগদ ৪০ লক্ষ টাকা এবং এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মাওবাদী বেল্টে কোটি কোটি টাকা:
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ছত্তিশগড়ের ধামতারি ও বাস্তার অঞ্চলে—যেখানে নকশাল তৎপরতা রুখতে সুরক্ষা বাহিনী লড়াই চালাচ্ছে—সেখানে গত কয়েক বছরে প্রায় ৬.৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে বা আদিবাসী এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে এই অর্থ ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

ধর্মান্তরকরণ ও প্যারালেল ইকোনমি:
টিটিআই ভারতে এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধিত নয়, অর্থাৎ তারা আইনত কোনো বিদেশি অনুদান নিতে পারে না। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় মিশনারি কাজ এবং ধর্মান্তরকরণের কাজে এই বিপুল অর্থ ঢালা হয়েছে। কোনো নজরদারি ছাড়াই একটি ‘সমান্তরাল নগদ অর্থনীতি’ (Parallel Cash Economy) গড়ে তোলাই ছিল এদের মূল উদ্দেশ্য।

জাতীয় নিরাপত্তায় বড় প্রশ্ন:
সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নকশালবাদ যখন দমনের পথে, তখন এই ধরনের রহস্যময় বিদেশি অর্থের অনুপ্রবেশ নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে এফসিআরএ আইনকে আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। ইডি বর্তমানে জব্দ করা ডিজিটাল নথি ও ডিভাইসগুলি খতিয়ে দেখছে, যা থেকে এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের আরও গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।