রাফালের ‘সিক্রেট’ এবার ভারতের হাতে! দেশীয় সফটওয়্যারে শক্তিশালী হচ্ছে বায়ুসেনা, দুশ্চিন্তায় বিদেশি কোম্পানি

ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়াতেই আগ্রহী নয়, বরং সেই যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ দেশীয় বা ‘স্বদেশী’ করতে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বায়ুসেনার ৩৬টি রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানের জন্য এবার ভারতেই তৈরি হতে চলেছে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) বিশ্লেষণ সফটওয়্যার।
কেন এই পরিবর্তনের প্রয়োজন?
বর্তমানে রাফালের সঙ্গে আসা বিদেশি সফটওয়্যারটি প্রায় ৪০০টি ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু এতে কিছু গুরুতর সমস্যা রয়েছে:
জটিল ও ধীরগতি: বর্তমান সিস্টেমটি অত্যন্ত ধীর এবং জটিল।
সীমাবদ্ধতা: এটি কেবল প্রস্তুতকারক সংস্থার (OEM) দেওয়া নির্দিষ্ট কম্পিউটারেই চলে। ফলে ঘাঁটির বাইরে বা অন্য কোথাও থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অজানা ত্রুটি: বর্তমান সিস্টেমটি কেবল আগে থেকে নির্ধারিত সমস্যাগুলোই ধরতে পারে, নতুন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করতে এটি ব্যর্থ।
নতুন সফটওয়্যারের চমক:
বায়ুসেনা এমন একটি ‘ইউনিভার্সাল’ বা সার্বজনীন টুল তৈরি করতে চাইছে যা অনেক বেশি দ্রুত এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব।
এটি সাধারণ ল্যাপটপ বা পিসিতে যেকোনো জায়গা থেকে চালানো যাবে।
রাফাল ছাড়াও বায়ুসেনার হাতে থাকা অ্যাপাচে (Apache), চিনুক (Chinook), সি-১৭ গ্লোবমাস্টার এবং সি-১৩০জে-এর মতো অত্যাধুনিক বিমানের ডেটাও একই জায়গায় প্রসেস করা যাবে।
এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অ্যাডভান্সড ডেটা মাইনিং-এর মাধ্যমে অজানা প্রযুক্তিগত ত্রুটিও দ্রুত ধরে ফেলবে।
লক্ষ্য আত্মনির্ভরশীলতা:
ভারত বর্তমানে অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই অবস্থায় রাফালের ডেটা বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেশীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে একদিকে যেমন কয়েক কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে যুদ্ধের সময় বা জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফটওয়্যার তৈরি হলে ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষা আরও নিশ্ছিদ্র হবে এবং ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বিশ্বমঞ্চে এক নতুন পরিচয় পাবে।