টাটা ট্রাস্টে বড় টালমাটাল! আইনি মারপ্যাঁচে আটকে ট্রাস্টিদের পদ? মহারাষ্ট্র সরকারের নয়া নিয়মে তুঙ্গে বিতর্ক

টাটা ট্রাস্টের অন্দরে ক্ষমতার রাশ এবং ট্রাস্টিদের মেয়াদের আইনি বৈধতা নিয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন টানাপড়েন। মহারাষ্ট্র সরকারের একটি নতুন অধ্যাদেশ এবং সেই সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যার জেরেই এখন টাটা সাম্রাজ্যের শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের গদি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইনি জটিলতার কেন্দ্রে কী আছে?
মহারাষ্ট্র পাবলিক ট্রাস্টস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর নয়া ধারা ‘৩০এ(২)’ অনুযায়ী, কোনো ট্রাস্টে স্থায়ী বা আজীবন ট্রাস্টির সংখ্যা মোট ক্ষমতার ২৫ শতাংশের (এক-চতুর্থাংশ) বেশি হতে পারবে না।
বর্তমানে ‘স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট’ (SRTT) এবং ‘টাটা এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট’ (TEDT)-এর প্রায় অর্ধেক ট্রাস্টিই স্থায়ী পদে রয়েছেন। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মটি মানতে গেলে অনেককেই পদ ছাড়তে হতে পারে। তবে টাটা ট্রাস্ট আইনি পরামর্শের কথা উল্লেখ করে আপাতত এই পরিবর্তন স্থগিত রেখেছে।
স্থায়ী ট্রাস্টি কারা এবং কেন বিতর্ক?
SRTT: এখানে নোয়েল টাটা, জিমি টাটা এবং জাহাঙ্গীর জাহাঙ্গীর—এই তিনজনই স্থায়ী ট্রাস্টি।
TEDT: এই বোর্ডেও নোয়েল টাটা, মেহলি মিস্ত্রি এবং জাহাঙ্গীর মিস্ত্রি আজীবন ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছেন।
আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যেহেতু অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা নেই যে এটি পুরনো নিয়োগের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে, তাই বর্তমান পদাধিকারীরা নিরাপদ। অন্যদিকে, ক্যাপস্টোন লিগ্যালের মতো সংস্থার দাবি, অধ্যাদেশের পাঠ অনুযায়ী এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
অভিযোগের তির ও মেহলি মিস্ত্রি:
চলতি মাসের শুরুতেই মেহলি মিস্ত্রির করা কিছু গুরুতর অভিযোগের পর বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। স্বার্থের সংঘাত, বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত উপেক্ষা এবং পদ্ধতিগত লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাস্টিদের নিয়োগ এখন কড়া তদন্তের আওতায়। এমনকি স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের (SDTT) কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগের আবেদনও জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী?
টাটা সন্স-এর ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা এই ট্রাস্টগুলোর হাতে। ফলে এখানকার ক্ষমতার পরিবর্তন গোটা টাটা গ্রুপের পরিচালনা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। অক্টোবর ও নভেম্বরে ভেনু শ্রীনিবাসন ও বিজয় সিং-এর মতো সদস্যদের মেয়াদের বিষয়গুলিও এখন আইনি আতশকাঁচের নিচে।
টাটা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও, আইনি লড়াই যে দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।