কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায় ফের স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের? ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

লোকসভা নির্বাচনের আবহে নির্বাচন কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’ (Troublemaker) তালিকা নিয়ে সংঘাত চরমে। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও কেন ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার তোড়জোড় করছে কমিশন? এই প্রশ্ন তুলে ফের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মর্মে মামলার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
পুরানো বিবাদ, নতুন মোড়
এর আগে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে অশান্তি রুখতে একটি ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা তৈরি করেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, এই তালিকায় রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মীদের নাম ঢুকিয়ে তাঁদের ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা আগাম গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস এর বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই সময় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল:
সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা সীমাহীন নয়।
কেবল ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে ঢালাও গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
আদালত সেই বিতর্কিত তালিকা খারিজ করে দিয়েছিল।
আইনি যুক্তি ও শাসকদলের আশঙ্কা
আদালতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) কিশোর দত্ত সওয়াল করেন যে, যথাযথ আইন এবং ধারা ছাড়া কাউকে আটকে রাখা যায় না। শাসকদলের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে তাঁদের অন্তত ৮০০ জন কর্মীকে এই তালিকার অজুহাতে জেলবন্দি করা হতে পারে।
কমিশনের অবস্থান
অন্যদিকে, কমিশনের আইনজীবীর দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আইনি গণ্ডির মধ্যে থেকে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা আগাম আটক করার ঘটনা এই রাজ্যে নতুন নয় বলেই দাবি তাঁদের।
তবে আদালতের স্থগিতাদেশের পরেও কেন ৩৫০ জনের তালিকা নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হলো, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাজ্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে। নির্বাচনের মুখে আদালতের এই রায় রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।