ভোটের আগে কলকাতায় কার্তুজের স্তূপ!, ধরা পড়ল বিহারের বাসিন্দা, প্ল্যান কী ছিল?

আগামীকাল বুধবার খাস কলকাতায় বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক তার আগেই শহর কলকাতায় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। সোমবার বিকেলে বিটি রোডের ওপর থেকে বিহারের এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে যে পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে, তাতে ভোটের আগে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
কী কী উদ্ধার হলো?
চিৎপুর থানা এলাকায় নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা শামীম আলমকে (৪০) আটক করে এসটিএফ। তার ব্যাগ তল্লাশি করে চক্ষু চড়কগাছ গোয়েন্দাদের। উদ্ধার হয়েছে:
-
৩টি সিঙ্গেল শটার আগ্নেয়াস্ত্র।
-
১টি ৭ মিমি অত্যাধুনিক পিস্তল।
-
৪টি খালি ম্যাগাজিন।
-
১০০ রাউন্ড ৭ মিমি কার্তুজ।
-
১৪ রাউন্ড ৮ মিমি কার্তুজ।
কার কাছে যাচ্ছিল এই অস্ত্রের পাহাড়?
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। বিহার থেকে কেন সে এত অস্ত্র নিয়ে কলকাতায় এল এবং কার কাছে এই বিপুল পরিমাণ কার্তুজ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে ভোটের ঠিক আগের দিন এই অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় গোয়েন্দাদের অনুমান, কলকাতায় নির্বাচনী হিংসা ছড়ানোর লক্ষ্যেই এই আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার পরিকল্পনা ছিল।
ভোটের মুখে তটস্থ শহর
২৯ এপ্রিল কলকাতার ১১টি আসনে ভোটগ্রহণ। উত্তর কলকাতার প্রবেশপথ বিটি রোডের ওপর এমন ঘটনা সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শহর জুড়ে অশান্তি পাকাতেই ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতী ও অস্ত্র আনা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে। কমিশনের দাবি, নাকা চেকিং এবং এসটিএফ-এর সক্রিয়তার কারণেই এই অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। শহরজুড়ে নিরাপত্তার খাঁচা আরও শক্ত করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে বুথে যেতে পারেন।
আজই ধৃত শামীম আলমকে আদালতে পেশ করা হবে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই অস্ত্র পাচার চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে চাইছে লালবাজারের গোয়েন্দারা।