“বদমাইশি করলে কায়দামতো ইলাজ!” ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীকে ‘সিংহম’ অজয় পালের খোলা চ্যালেঞ্জ, তোলপাড় বাংলা

দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় কার্যত রণক্ষেত্রের মেজাজ। আর এই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা নির্বাচন কমিশনের পুলিশ অবজার্ভার তথা আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত এই দুঁদে অফিসারের কড়া হুঁশিয়ারি এবং তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে তাঁর আচমকা হানা এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

কী ঘটেছিল ফলতায়?
ভোটারদের ভয় দেখানোর একাধিক অভিযোগ পেয়ে সোমবার সরাসরি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে পৌঁছে যান অজয় পাল শর্মা। সেই সময় প্রার্থী বাড়িতে না থাকলেও, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামনেই মেজাজ হারান এই পুলিশ কর্তা। বন্দুকধারী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পাশে নিয়ে সোজাসাপ্টা হিন্দিতে তাঁর বার্তা:

“জাহাঙ্গীরকে ভালো করে বুঝিয়ে দেবেন, যদি কোনো বদমাইশি হয় তবে কায়দামতো ইলাজ (চিকিৎসা) হবে। তখন আর কান্নাকাটি করে কোনো লাভ হবে না।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই মুহূর্তের মধ্যে তা রাজনৈতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও আইনি নোটিশ
শুধুমাত্র মুখেই হুঁশিয়ারি নয়, প্রশাসনিক কড়াকড়িও শুরু করেছেন অজয় পাল। জাহাঙ্গীরের বাড়িতে মোতায়েন থাকা রাজ্য পুলিশের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী ১০ জন পুলিশ থাকার কথা থাকলেও কেন সেখানে ১৪ জন ছিলেন, তা নিয়ে স্থানীয় এসপি-র কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। এমনকি, ওই বাড়তি চারজন পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে শোকজ নোটিশও ধরানো হয়েছে।

দিল্লি-লখনউ-কলকাতা: ত্রিমুখী রাজনৈতিক যুদ্ধ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক তর্জা:

বিজেপি শিবির: আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য অজয় পালকে ‘সিংহম’ তকমা দিয়েছেন। তাঁর মতে, অপরাধীদের দমানোর জন্য এই কড়া মেজাজই প্রয়োজন।

তৃণমূলের পাল্টা: ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এটি বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল। মহুয়া মৈত্র থেকে ঋজু দত্ত— সকলেরই এক সুর, “বাংলা উত্তরপ্রদেশ নয়।” অজয় পালের পুরনো রেকর্ড টেনে তাঁকে ‘প্যারাশুটেড এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছে শাসকদল।

অখিলেশের এন্ট্রি: আসরে নেমেছেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবও। তাঁর দাবি, বিজেপি নিজের অনুগত অফিসারদের বাংলায় পাঠিয়েছে, যাদের সময়ের ব্যবধানে বিচার হবে।

নোট: ভোটের ঠিক আগে একজন পুলিশ অবজার্ভারের এই অতি-সক্রিয়তা কি অবাধ ভোট নিশ্চিত করবে, নাকি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে? ফলতার বুধবারের ব্যালট বক্সই দেবে সেই উত্তর।