তৃণমূলে মহাবিপ্লব! এনডিএ-তে যোগ দিচ্ছেন ২০ বিদ্রোহী সাংসদ, বড় সঙ্কটে মমতা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন। দলের ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদ রবিবার একযোগে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূলের জন্য এক ‘গুরুতর অস্তিত্ব সংকট’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
সাংসদদের এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়া
বিদ্রোহী এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করে বিধানসভায় পৃথক আসন বিন্যাসের আবেদন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-কে সমর্থন দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, দলের মোট ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন—অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি—এই একীভূতকরণের আবেদনে সই করেছেন।
আইনি প্রক্রিয়ায় লোকসভা সচিবালয়
লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, সাংসদদের এই আবেদনের ওপর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধানের দশম তফসিলের ৪(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনো দলের সঙ্গে একীভূত হলে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হয় না। আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত অভ্যন্তরীণ কমিটি আবেদনটি খতিয়ে দেখছে এবং আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই স্পিকার ওম বিরলা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
পাল্টা রণকৌশল তৃণমূলের
দল ভাঙার এই প্রক্রিয়া আটকাতে তৎপর তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের সংসদীয় নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এই দাবিকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়। দলের পক্ষ থেকে লোকসভা স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলছুট গোষ্ঠীর আবেদন খারিজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি জানিয়ে এবং দলের নির্বাচনী প্রতীকের ওপর অধিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
তালিকায় বড় পরিবর্তন
এই একীভূতকরণ বৈধ হলে লোকসভার আসন বিন্যাসে বড় বদল আসবে। বিরোধী বেঞ্চে বসা এই সাংসদরা শাসক শিবিরের দিকে চলে আসতে পারেন। একদিকে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তিক্ষয়, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশ।