মহারাষ্ট্রে ফের বড় ভাঙন? উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ‘অপারেশন টাইগার’, অস্বস্তিতে মাতোশ্রী!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতি আবারও এক চরম অস্থিরতার মুখে। একনাথ শিন্ডে শিবিরের তরফ থেকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি)-র ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর ইঙ্গিত মেলায় নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে। খবর অনুযায়ী, উদ্ধব শিবিরের সাতজন লোকসভা সাংসদ দলবদল করে শিন্ডে শিবিরে যোগ দিতে পারেন, যা রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

দিল্লি সংযোগ ও জল্পনা
রবিবার (১৪ জুন) মাতোশ্রীতে উদ্ধব ঠাকরের ডাকা জরুরি বৈঠকের পরেই বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। জল্পনা আরও বাড়ে সোমবার যখন উদ্ধব গোষ্ঠীর সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখ দিল্লিতে একনাথ শিন্ডে শিবিরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদবের বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন। যদিও উদ্ধব গোষ্ঠী এই ঘটনাকে কোনো গুরুত্ব দিতে নারাজ, তবে শিন্ডে শিবিরের এমএলসি কৃপাল তুমানে দাবি করেছেন, সাংসদদের দলবদল এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিনি বলেন, “প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন, কেবল তারিখ ঘোষণার বাকি।”

শিবসেনার অন্দরে বর্তমান সমীকরণ
বর্তমানে লোকসভায় শিবসেনা (ইউবিটি)-র হাতে রয়েছে নয়জন সাংসদ। শিন্ডে শিবিরের দাবি অনুযায়ী, যদি সাতজন সাংসদ দলত্যাগ করেন, তবে লোকসভায় উদ্ধব ঠাকরের শক্তি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। বর্তমানে সংসদের উভয় কক্ষ মিলিয়ে উদ্ধব শিবিরে দশজন এবং শিন্ডে গোষ্ঠীর হাতে নয়জন সাংসদ রয়েছেন। এই হিসাব উল্টে যেতেই ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে তৎপর শিন্ডে শিবির।

উদ্ধবের কঠোর বার্তা
এদিকে, সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে শিবসেনা (ইউবিটি) মুখপাত্র আনন্দ দুবে এটিকে ‘শিন্ডে শিবিরের গুজব’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে দলের অন্দরের খবর, মাতোশ্রীর বৈঠকে উদ্ধব ঠাকরে সাংসদদের উদ্দেশ্যে বেশ কড়া সুরেই বলেছেন, “যাঁরা যেতে চান, যেতে পারেন। কাউকে জোর করে আটকানোর কোনো প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও আশাবাদী হয়ে কর্মীদের বলেন, “শিন্ডে চলে গিয়েছেন, তবে আজ আপনাদের সময়; ধৈর্য ধরুন, আগামী দিন আমাদের।”

একনাথ শিন্ডেকে সরাসরি ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে কেবল রহস্যময় হাসি হেসে এড়িয়ে গেছেন। মহারাষ্ট্রের রাজনীতির এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।