শেষ মুহূর্তে কপাল খুলল ১৪৬৮ জনের! দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে সুপ্রিম নির্দেশে বড় ধামাকা কমিশনের

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের শেষ তথা দ্বিতীয় দফার উৎসব। সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে প্রার্থীদের। ঠিক তার আগের রাতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া নাম নিয়ে প্রকাশ করা হলো দ্বিতীয় দফার ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’ বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা।

তালিকায় নতুন ১৪৬৮ জন: কারা দিতে পারবেন ভোট?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তালিকায় নতুন করে ১৪৬৮ জন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ ছিল, অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল যে সমস্ত আবেদনকারীদের নামের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবে, তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেই মোতাবেক সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া ব্যক্তিদের নাম এই বিশেষ তালিকায় তোলা হয়েছে।

তবে মনে রাখা জরুরি:

শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই ভোট দেওয়া যাবে না।

যাদের আবেদন ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছে, একমাত্র তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন।

আবার যাদের আবেদন খারিজ হয়েছে, তাঁরা এবার ব্রাত্যই থাকছেন।

কেন এই বিশেষ তালিকা?
সাধারণত ভোট ঘোষণার পর ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৬০ লক্ষাধিক নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। সেই জট কাটাতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত আধিকারিকরা কাজ শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত যত নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের ভোটের সুযোগ দিতে হবে। প্রথম দফায় মাত্র ১৩৯ জন সুযোগ পেলেও, এবার সংখ্যাটা এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে।

বুথে বুথে পৌঁছেছে তালিকা
মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই সমস্ত বুথে এই নতুন তালিকা পৌঁছে দিয়েছে কমিশন। অনেক ভোটারই তাঁদের ভাগ্য নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। কমিশন জানিয়েছে, ভোটাররা সরাসরি বুথে গিয়ে বা বিডিও অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন তাঁদের নাম শেষ পর্যন্ত তালিকায় উঠল কি না।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
বুধবারের এই মেগা ভোটের জন্য ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। অশান্তি রুখতে জায়গায় জায়গায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের নির্ভয়ে বুথে আসার ভরসা দিচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। ‘সিংহম’ হিসেবে পরিচিত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয়পাল শর্মা থেকে শুরু করে কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা—সবার নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের ১৪২টি স্পর্শকাতর কেন্দ্রের দিকে।