বিশ্বযুদ্ধে বিরতি না কি নতুন সংঘাত? ইরানের ৩ কঠিন শর্তে ‘না’ ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালী নিয়ে চরম উত্তেজনা!

মরুঝড় কি তবে থামার লক্ষণ নেই? ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শেষ কোথায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। হরমুজ প্রণালী নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে প্রবল দুশ্চিন্তা, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও আমেরিকার সামনে রেখেছে তিনটি কঠিন শর্ত। আর এখানেই বেজায় চটেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সেই ‘তিন শর্ত’ কী?
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার সময় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আমেরিকার জন্য তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন:

১. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর সমস্ত অবরোধ অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
২. পারমাণবিক বিতর্ক স্থগিত: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা বা চাপ সৃষ্টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
৩. হামলা বন্ধ: ইরান এবং লেবাননের ওপর সমস্ত রকম সামরিক অভিযান বা হামলা বন্ধ করার গ্যারান্টি দিতে হবে।

কেন নাখোশ ডোনাল্ড ট্রাম্প?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্প এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দল এই শর্তগুলোকে মোটেই ইতিবাচকভাবে দেখছে না। ট্রাম্পের স্পষ্ট কথা—ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যাবে না। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

বিশবাঁও জলে শান্তি আলোচনা!
হোয়াইট হাউজ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও সূত্রের খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব অত্যন্ত কঠোর। তেহরান যে শর্তের জালে আমেরিকাকে বাঁধতে চাইছে, ট্রাম্প তাতে পা দিতে নারাজ। এর ফলে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আগুন লাগার সম্ভাবনা। এখন দেখার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ ইরানকে কতটা চাপে ফেলতে পারে।