“চোরকে চোর বলতে ভয় পাই না!” মমতার খাসতালুকে শুভেন্দুর ঢাল এখন উত্তরবঙ্গের এই শিল্পী

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনীতির ময়দানে এবার তপ্ত স্লোগানের জায়গা নিচ্ছে সুর আর প্যারোডি। আর সেই সুরের লড়াইয়ে এবার ভবানীপুরের হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছেন কোচবিহারের জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া শিল্পী মনীন্দ্র বর্মন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে দাঁড়িয়ে সুরের মাধ্যমেই দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরছেন তিনি।
সুরেই বিঁধছেন ‘পিসি-ভাইপো’কে: মনীন্দ্রের গানের প্রতিটি লাইনে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বাঁধা গানের কলি— “কয়লা ভাইপো, চটি পিসির বিদায় বিসর্জন। জাগো বাংলার জনগণ, চাই পরিবর্তন।” শুধু কয়লা নয়, তাঁর গানে উঠে এসেছে রেশন, চাকরি এবং বালি চুরির মতো একাধিক ইস্যু।
হুমকি উপেক্ষা করেই লড়াই: মনীন্দ্র বর্মনের এই লড়াই কিন্তু সহজ ছিল না। অভিযোগ, গত বছর তৃণমূলের ‘অপশাসন’ নিয়ে গান লিখে শাসকদলের চক্ষুশূল হয়েছিলেন তিনি। মাথাভাঙা থানার পুলিশ তাঁকে হেনস্তা করে এবং খোদ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তাঁকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু দমে যাননি শিল্পী। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিতেই আরও ঝাঁঝালো ভাষায় গান বাঁধতে শুরু করেন তিনি।
ভবানীপুরে ব্যাপক সাড়া: ইতিমধ্যেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩টি জনসভায় গান গেয়ে প্রচার সেরেছেন মনীন্দ্র। শিল্পী বলেন, “আমি মনে করি প্রত্যেকটা শিল্পীর উচিত অপশাসনের বিরুদ্ধে সরব হওয়া। কলকাতার রাস্তায় আমায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে, মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চোরকে চোর বলতে আমি ভয় পাই না।” ভাইরাল সুরের লড়াই: ২০২১-এর নির্বাচনে যেমন ‘টুম্পা সোনা’ বা ‘খেলা হবে’ ঝড় তুলেছিল, ২০২৬-এ তেমনই ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে বাজছে মনীন্দ্রের প্রতিবাদী ভাওয়াইয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মঞ্চে গান গেয়ে নজর কাড়া এই শিল্পীই এখন শুভেন্দুর প্রচারের অন্যতম আকর্ষণ।
ভোটের ফল যাই হোক, ভবানীপুরের রাজপথে মনীন্দ্রের এই নির্ভীক সুর যে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।