চিন-পাকের ঘুম ওড়াতে আসছে রাশিয়ার ‘অদৃশ্য ঘাতক’! আকাশপথের রাজা হতে চলেছে ভারত

ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে যোগ হতে চলেছে আরও এক শক্তিশালী পালক। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক আস্ফালন রুখতে এবার রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক R-37M (আর-৩৭এম) দীর্ঘপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পেতে চলেছে ভারত। প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চুক্তির মাধ্যমে ৩০০টি ‘হাইপারসনিক’ ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র আসতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে।

কেন এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরে এত আতঙ্ক? আর-৩৭এম-কে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং দীর্ঘতম পাল্লার মিসাইল হিসেবে গণ্য করা হয়। এর কিছু বিধ্বংসী বৈশিষ্ট্য শত্রু শিবিরের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট:

  • অবিশ্বাস্য পাল্লা: এটি ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু বিমানে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।

  • হাইপারসনিক গতি: শব্দের চেয়ে প্রায় ৬ গুণ দ্রুত বেগে ধেয়ে আসে এই মিসাইল, যা এড়ানো প্রায় অসম্ভব।

  • টার্গেট: শুধু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুপক্ষের রাডারবাহী বিমান (AWACS) এবং মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরা ট্যাঙ্কার বিমান ধ্বংস করতে এটি পারদর্শী।

সুখোই-এর হাতে নয়া শক্তি: ভারতীয় বায়ুসেনার মেরুদণ্ড বলে পরিচিত সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হবে। এর ফলে আকাশযুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে যাবে। পাকিস্তান বা চিনের বিমান ভারতের সীমানায় ঢোকার অনেক আগেই মাঝ আকাশেই ছাই হয়ে যাবে।

চিন ও পাকিস্তানের ওপর প্রভাব: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে পাকিস্তান তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিমানগুলি সীমান্ত থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, লাদাখ সীমান্তে চিনের দাদাগিরি কমাতেও এই ‘শক্তি গুণক’ অস্ত্রটি বড় ভূমিকা নেবে। ভারত যে দুই ফ্রন্টেই লড়াই করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এই চুক্তি সেই বার্তাই দিল।

কবে মিলবে এই অস্ত্র? সূত্র মারফত জানা গেছে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই সরবরাহ শুরু করবে রাশিয়া। পাশাপাশি ভারত কিন্তু নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ (Astra MK2/MK3) ক্ষেপণাস্ত্রের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। অর্থাৎ, বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী দিনে ভারত আকাশপথে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে।