“না শুধরালে কাঁদতে হবে!” তৃণমূল প্রার্থীর ড্রয়িংরুমে ঢুকে তুলোধনা ইউপি-র ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পালের!

তিনি উত্তরপ্রদেশের ‘দাবাং’ অফিসার। অপরাধীদের যম হিসেবে পরিচিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে বাংলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই নিজের মেজাজ বুঝিয়ে দিলেন ২০১১ ব্যাচের এই দুঁদে অফিসার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে সরাসরি ধমক দেওয়ার তাঁর একটি ভিডিয়ো এখন নেটপাড়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল!
“পরে কাঁদতে হবে!”— প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি: ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে সশরীরে হাজির হয়েছেন অজয় পাল শর্মা। সেখানে উপস্থিত লোকজনকে কড়া ভাষায় তিনি নির্দেশ দেন যেন প্রার্থী আইন মেনে চলেন। মেজাজ হারিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “জাহাঙ্গিরকে শুধরে যেতে বলুন, না-হলে পরে কাঁদতে হবে!” ভোটের মুখে একজন পুলিশ পর্যবেক্ষকের এমন রণংদেহী রূপ দেখে রীতিমতো থতমত খেয়ে যান সেখানে উপস্থিত শাসক দলের কর্মীরা।
কে এই অজয় পাল শর্মা? পাঞ্জাবের লুধিয়ানার ভূমিপুত্র অজয় পাল শর্মার পরিচয় কিন্তু বেশ বৈচিত্র্যময়।
-
চিকিৎসক থেকে পুলিশ: তিনি পেশায় ছিলেন একজন ডেন্টাল সার্জন (BDS)। কিন্তু সাদা কোট ছেড়ে বেছে নেন পুলিশের উর্দি।
-
দাবাং অফিসার: উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই অফিসার যোগী রাজ্যে অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের জন্য ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ তকমা পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।
কেন এই কঠোরতা? ভাঙ্গড়, ক্যানিং, মিনাখাঁর মতো দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর আসে। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ, যার মধ্যে রয়েছে এই জেলার সবকটি আসন। এই পরিস্থিতিতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করতে নারাজ কমিশন। আর সেই কারণেই অজয় পাল শর্মার মতো কঠোর অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে।
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা: এই ভিডিয়ো সামনে আসতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে আক্রমণ শানাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ভিডিয়োটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাইরাল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও, অজয় পালের এই ‘অ্যাকশন’ যে দুষ্কৃতীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট।