শুভেন্দুর প্রার্থীপদ বাতিল নিয়ে হাইকোর্টে বড় মোচড়! ধোপে টিকল না মামলা, চরম অস্বস্তিতে মামলাকারী

বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের মাঝেই বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রার্থীপদ খারিজের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে আইনি বাধা কাটিয়ে ভোটের ময়দানে শুভেন্দুর লড়াই আরও নিষ্কণ্টক হলো।

কী ছিল অভিযোগ? জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও মেদিনীপুরে প্রচার চলাকালীন আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। অভিযোগ ছিল, তিনি “ধর্মনিরপেক্ষতা নিপাত যাক” এবং “আমি হিন্দুদের এমএলএ” ধরনের মন্তব্য করে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করেছেন। এই যুক্তিতেই তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের আর্জি জানানো হয়েছিল।

হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালত অত্যন্ত বাস্তবসম্মত প্রশ্ন তোলে। বিচারপতির প্রশ্ন ছিল— “সংবিধানের ঠিক কোন ধারায় এবং কোন আইনি ভিত্তিতে একজন প্রার্থীর পদ খারিজের আবেদন করা হচ্ছে?”

আদালত সূত্রে খবর, এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি মামলাকারীর আইনজীবীরা। আইনি ভিত্তি ছাড়াই এমন গুরুতর আবেদন করার কারণে শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

স্বস্তির ডবল ডোজ: শুধু প্রার্থীপদ নয়, খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া একটি পুরনো এফআইআর-এর ক্ষেত্রেও সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন শুভেন্দু। বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। আগামী জুলাই মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

নির্বাচনের ঠিক মুখে একের পর এক আইনি বাধা কাটায় বিজেপি শিবির এখন রীতিমতো চাঙ্গা। আইনি লড়াইয়ে শুভেন্দুর এই ‘ক্লিন চিট’ নির্বাচনী ময়দানে ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।