হাবড়া থেকে বর্ধমান—খাদ্যশস্য দুর্নীতির খোঁজে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা, মিলল ডিজিটাল প্রমাণের পাহাড়!

দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলায় ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এবং বর্ধমানের মোট ২৫টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। লক্ষ্য— রেশন বা পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) কেলেঙ্কারি। অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৮.৪ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অভিযানের মূল টার্গেট কারা? ইডির নজরে ছিলেন প্রভাবশালী সরবরাহকারী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং তাঁর সহযোগীরা। এই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অফিস ছাড়াও সুসান্ত সাহা, সমীর কুমার চন্দ্র এবং পার্থ সাহার মতো ব্যক্তিদের বাসস্থানেও হানা দেয় ইডি। এছাড়াও ‘মা অন্নপূর্ণা রাইস কনসার্ন’ এবং ‘আদর্শ ইন্টারন্যাশনাল’-এর মতো একাধিক সংস্থাও রয়েছে তদন্তকারীদের স্ক্যানারে।
দুর্নীতির নীল নকশা: ইডি সূত্রে খবর, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করত। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি গম বা খাদ্যশস্য সুবিধভোগীদের কাছে না পাঠিয়ে সরাসরি খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হতো। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলার এবং প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীদের যোগসাজশে এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা লেনদেন চলত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট: ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে বসিরহাট থানায় কাস্টমস বিভাগের একটি অভিযোগ থেকে। পরে তদন্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের হদিশ মেলায় মাঠে নামে ইডি। পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি।
রাজনৈতিক উত্তাপ: ভোটের ঠিক আগে এই অভিযানে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি নেতাদের দাবি, “তৃণমূল জমানায় দুর্নীতি যে কত গভীরে শেকড় গেঁড়েছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।” সাধারণ মানুষের খাবারের ওপর এই ‘ডাকাতি’র কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযানকে নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে, যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।
এখন দেখার, বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিজিটাল প্রমাণ এবং নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই রেশন দুর্নীতির নেপথ্যে আর কোন কোন রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসে।