ভোটের আগে পুলিশের ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’! ১০৯৫ জন গ্রেফতার এক রাতেই, কমিশনের রেডারে এবার কারা?

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেনজির পদক্ষেপ নিল পুলিশ প্রশাসন। শান্তি বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স’ (CBM) অভিযান। আর এই অভিযানের কোপে গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ১৫৪৩ জন দুষ্কৃতীকে। রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকালের মধ্যেই জালে পড়েছে ১০৯৫ জন।
পূর্ব বর্ধমানে সবচেয়ে বেশি ধরপাকড়
পুলিশি তৎপরতায় জেলাভিত্তিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। এই জেলা থেকে মোট ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে নজর কেড়েছে তৃণমূল কাউন্সিলর নারু ভগতের নাম। খোদ পুলিশকেই সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উত্তপ্ত জগদ্দলেও কড়া দাওয়াই
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৩১৯ জন)। উল্লেখ্য, রবিবার রাতে বিজেপি প্রার্থীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে জগদ্দল এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ২৪৬ জন এবং কলকাতা উত্তর থেকে ১০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক নজরে গত ৩৬ ঘণ্টার পরিসংখ্যান:
পূর্ব বর্ধমান: ৪৭৯ জন
উত্তর ২৪ পরগনা: ৩১৯ জন
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৪৬ জন
কলকাতা উত্তর: ১০৯ জন
হুগলি: ৪৯ জন
নদিয়া ও হাওড়া: ৩২ জন করে
কমিশন বনাম আদালত: আইনি টানাপড়েন
ভোটের আগে অশান্তি রুখতে নির্বাচন কমিশন ‘ট্রাবল মেকার’ বা গোলমাল পাকাতে পারে এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছিল। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছলে আদালত কমিশনের ওই তালিকায় স্থগিতাদেশ দেয়। তবে আদালতের নির্দেশ থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এই ব্যাপক ধরপাকড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পুলিশের শীর্ষ মহলের স্পষ্ট বার্তা—ভোটের ময়দানে কোনওভাবেই পেশিশক্তির আস্ফালন বরদাস্ত করা হবে না। আগামী দিনেও এই কড়া পদক্ষেপ জারি থাকবে।