২৪ ঘণ্টায় ২০ লক্ষ ফলোয়ার উধাও! তবুও কেন দল ছাড়লেন রাঘব? আম আদমি পার্টির ভেতরের হাড়হিম করা তথ্য ফাঁস!

কর্পোরেট জগতের ‘টক্সিক কালচার’ বা বিষাক্ত কাজের পরিবেশ নিয়ে আমরা অনেক গল্প শুনেছি। কিন্তু রাজনীতির অন্দরমহলও যে কতটা বিষাক্ত হতে পারে, সোমবার তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিলেন রাঘব চাড্ডা। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে কেন তিনি বিজেপিতে নাম লেখালেন, তা নিয়ে মুখ খুলে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন এই তরুণ তুর্কি নেতা।

“কাজ করার পরিবেশ নেই সেখানে”
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় রাঘব জানিয়েছেন, রাজনীতিতে তিনি কেরিয়ার গড়তে আসেননি, বরং আদর্শের টানে যোগ দিয়েছিলেন। আপ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে জীবনের সেরা ১৫টি বছর তিনি দলকে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে দলের পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। রাঘবের কথায়, “দলের রাশ এখন দুর্নীতিগ্রস্তদের হাতে। সেখানে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সংসদে আমি কী বলব, তা-ও সেন্সর করা হচ্ছিল। সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

সঠিক মানুষ, ভুল দল!
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে রাঘব নিজেকে “সঠিক মানুষ কিন্তু ভুল দলে” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গেই আম আদমি পার্টির মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলত্যাগী এই নেতার প্রশ্ন, “এক-দু’জন ভুল হতে পারেন, কিন্তু ৭ জন সাংসদ কি একই সঙ্গে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?”

এক নজরে রাঘবের অভিযোগের তীর:

সেন্সরশিপ: নিজের দলের সাংসদের বক্তব্যও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

দুর্নীতি: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

হতাশা: কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপে নয়, বরং দলের ওপর চরম বিতৃষ্ণা থেকেই এই দলবদল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় ধাক্কা!
রাঘব চাড্ডার এই দলবদল নেটদুনিয়ায় ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। দল ছাড়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২০ লক্ষ ফলোয়ার হারিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অতীতে বিজেপির কড়া সমালোচনা করা তাঁর পুরনো ভিডিওগুলোও এখন নতুন করে ভাইরাল হতে শুরু করেছে। নেটিজেনদের একাংশ একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বললেও, অনুগামীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল যখন দিল্লির মসনদ সামলাতে ব্যস্ত, তখন একসঙ্গে ৭ জন সাংসদের এই প্রস্থান যে ‘আপ’-এর জন্য এক বিরাট অশনিসংকেত, তা বলাই বাহুল্য।