সম্মতি থাকলে ধর্ষণ কেন? লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে বড় পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের

আধুনিক সমাজে ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপ’ বা বিবাহবহির্ভূত সহাবস্থান নিয়ে এক যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা— লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কোনও ‘ফৌজদারি অপরাধ’ (Criminal Offence) নয়। এই ধরনের সম্পর্কে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় যে বড়সড় ঝুঁকি থাকে, তাও মনে করিয়ে দিয়েছে আদালত।
ঠিক কী ঘটেছিল?
এক মহিলা তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগ এনেছিলেন। ওই মহিলার দাবি ছিল, দীর্ঘ কয়েক বছর একসঙ্গে থাকার পর সঙ্গী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বেশ কিছু কড়া প্রশ্ন তোলেন।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে যে ৩টি বিষয় উঠে এল:
১. সম্মতি বনাম অপরাধ: বিচারপতি প্রশ্ন করেন, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক যখন স্বেচ্ছায় একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাকে ‘যৌন হেনস্থা’ বলা যায় কি? সম্মতি থাকলে সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
২. লিভ-ইন ও খামখেয়ালিপনা: বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “লিভ-ইন সম্পর্কে বিয়ের বাইরে এমন অপ্রত্য়াশিত পরিবর্তন বা খামখেয়ালিপনা হয়েই থাকে। বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর আলাদা হয়ে গেলেই তাকে যৌন হেনস্থা বলা যায় না।”
৩. সন্তানের অধিকার: অভিযোগকারিণী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন করে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, সম্পর্ক অবৈধ হলেও ওই সম্পর্কে জন্মানো সন্তান কিন্তু ‘অবৈধ’ নয়। ওই মহিলা সন্তানের ভরণপোষণের জন্য আবেদন করতে পারেন, কিন্তু বিচ্ছেদকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
“বিয়ে হলে অধিকার বেশি থাকত”
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিবাহ বন্ধন না থাকায় লিভ-ইন সম্পর্কে আইনি সুরক্ষার জায়গাটি দুর্বল থাকে। বিচারপতি জানান, যদি এটি সামাজিক বিয়ে হতো, তবে ওই মহিলার অধিকার ও সুরক্ষা অনেক বেশি থাকত।
“ভিকটিম শেমিং নয়, বরং সম্মতির ধরন বোঝা জরুরি”— উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিল যে, লিভ-ইন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কোনোভাবেই ফৌজদারি মামলার আওতায় পড়ে না।
এই রায় আগামী দিনে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের মামলাগুলির ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।