ভোটের আগে হস্টেলে ‘সুপার চেকিং’! যাদবপুর-আলিয়া সহ ৫৬টি ক্যাম্পাসে হানা দিচ্ছে কমিশন, নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্র?

বুধবারের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের আগে এবার রাজনীতির ভরকেন্দ্র বদলে গেল খাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে। ভোট শুরুর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা ও শহরতলির ৫৬টি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হস্টেল ও আবাসে ‘সুপার চেকিং’-এর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই তালিকায় সবার উপরে নাম রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর ক্যাম্পাসগুলোর।

কেন এই ‘চিরুনি তল্লাশি’?
কমিশন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, ভোটের দিন বুথে বুথে অশান্তি ছড়াতে এবং গণ্ডগোল পাকাতে শহরের বিভিন্ন হস্টেলে ‘বহিরাগত’দের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই ‘অবাঞ্ছিত’ অতিথিরা যাতে ভোটের দিন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই মেগা তল্লাশির ছক কষেছে কমিশন। বিশেষ করে রাজারহাট-নিউ টাউন ও পার্ক সার্কাসের আলিয়া ক্যাম্পাস এবং যাদবপুরের আবাসনগুলোতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের স্ক্যানারে আর কোন কোন প্রতিষ্ঠান?
শহরের বুক থেকে শহরতলি, রেহাই পাচ্ছে না কেউই:

সল্টলেক ও উত্তর কলকাতা: বেলগাছিয়া ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও যুবভারতীর যুব আবাস।

কল্যাণী: বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্যান্য: তেঘরিয়া ও নিউ টাউনের হজ হাউসগুলোকেও এই বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

প্রতিবাদ ও রাজনীতির রঙ: উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
কমিশনের এই সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ছাত্র সমাজের একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ‘দেশবিরোধী’ মন্তব্যের রেশ ধরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করছে কমিশন। যাদবপুরের ছাত্রনেতা ইন্দ্রানুজ রায়ের বক্তব্য, “কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।” অন্যদিকে, অধ্যাপক মহলের আশঙ্কা— নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ক্যাম্পাসের স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ খর্ব করার চেষ্টা চলছে।

আজ সোমবার থেকেই এই নির্দেশের প্রতিবাদে একাধিক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের সুর চড়ছে। একদিকে চৈত্র শেষের তীব্র দহন, অন্যদিকে রাজনীতির পারদ— দুই মিলিয়ে তিলোত্তমার ক্যাম্পাসগুলো এখন আক্ষরিক অর্থেই ফুটছে।