বিচারপতির উপর আস্থা নেই! এজলাস বয়কটের বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত কেজরিওয়ালের, দিল্লিতে সাংবিধানিক সংকট?

দিল্লির আবগারি নীতি মামলায় এবার সরাসরি বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটলেন আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তাঁর এজলাস বয়কটের ডাক দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার একটি বিস্ফোরক চিঠি লিখে কেজরিওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সশরীরে বা আইনজীবীর মাধ্যমে আর এই বিচারপতির এজলাসে হাজিরা দেবেন না।
কেন বিচারপতির ওপর অনাস্থা?
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এমনকি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার সঙ্গেও তাঁদের পেশাগত সম্পর্কের দাবি তুলেছেন তিনি। কেজরিওয়ালের মতে, এর ফলে মামলার নিরপেক্ষতা নষ্ট হতে পারে। যদিও বিচারপতি শর্মা এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আক্রমণ’ বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন।
সত্যাগ্রহের পথে কেজরিওয়াল
আদালতের কঠোর অবস্থানের পর মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের আদর্শকে হাতিয়ার করেছেন কেজরিওয়াল। চিঠিতে তিনি লিখেছেন:
“গান্ধীজির সত্যাগ্রহের নীতি অনুসরণ করে আমি জানাচ্ছি যে, বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার এজলাসে মামলা চালানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার কেবল সম্পন্ন হলেই চলবে না, তা দৃশ্যমানও হতে হবে। আমি আমার বিবেকের ডাকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে নিজের আইনি পথ খোলা রেখে তিনি জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রাখছেন।
গ্রেপ্তার হতে পারেন কেজরিওয়াল?
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেজরিওয়ালের এই ‘আদালত বয়কট’-এর সিদ্ধান্ত তাঁকে বড় বিপদে ফেলতে পারে। প্রবীণ আইনজীবী সতীশ তামতার মতে, কোনো মামলায় অভিযুক্ত খালাস পাওয়ার সময় একটি মুচলেকা দেন যে তিনি আপিল শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন। কেজরিওয়াল যদি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজিরা না দেন, তবে:
আদালত প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করতে পারে।
তাতেও কাজ না হলে তাঁকে আদালতে হাজির করতে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপট
আবগারি নীতি মামলায় নিম্ন আদালত কেজরিওয়ালকে অব্যাহতি (Discharge) দিয়েছিল। সিবিআই (CBI) সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে। সেই আবেদনের শুনানিই চলছে বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার এজলাসে।
বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদার বদলে এখন রাজপথ আর আদালতের সংঘাতে এক চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে।