থানার ওসি-দের চরম পরিণতি হবে! বিস্ফোরক উদ্ধার হলেই নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি কমিশনের, তোলপাড় পুলিশমহল

ভোটকুশলীদের সমস্ত অঙ্ক উল্টে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার আগে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা এবং বোমা-বারুদের সংস্কৃতি রুখতে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ময়দানে নামিয়ে দিচ্ছে কমিশন।

বোমা বাঁধলেই তদন্ত করবে NIA! কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এবার থেকে রাজ্যের কোথাও বোমা বাঁধতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে বা বিস্ফোরক উদ্ধার হলে, সেই মামলার তদন্তভার আর রাজ্য পুলিশের হাতে থাকবে না। সরাসরি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) সেই ঘটনার তদন্ত করবে। প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিতে মেটার পর, শেষ দফায় বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লির নির্বাচন সদন।

থানার ওসি-দের জন্য ‘ডেথ ওয়ারেন্ট’? শুধু অপরাধীরাই নয়, এবার কমিশনের কড়া নজরে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আধিকারিকরাও। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে:

  • কোনো থানা এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো হলে বা বিস্ফোরক উদ্ধার হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC) এবং আইসি (IC)-দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কর্তব্যে গাফিলতি হলে পুলিশ আধিকারিকদের ‘নজিরবিহীন পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

  • নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত সন্দেহভাজন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ ড্রাইভ শুরু রাজ্য জুড়ে কমিশনের এই কড়া নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে লালবাজার থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ প্রশাসন। বোমা প্রস্তুতকারকদের ধরতে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ তল্লাশি অভিযান। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার, সব জেলার এসপি এবং ডিসিপি-দের কাছে এই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার: নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে অশান্তি রুখতে তারা কতটা অনড়। একদিকে বোমা বাঁধলে NIA-এর জুজু, অন্যদিকে পুলিশ আধিকারিকদের চাকরি বাঁচানোর লড়াই— সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলা এখন কার্যত দুর্গ। এখন দেখার, এই নজিরবিহীন কড়াকড়িতে শেষ দফার ভোট কতটা রক্তপাতহীন হয়।