“আমেরিকা ফার্স্ট” অতীত! এবার কি তবে বিশ্বযুদ্ধের পথে ট্রাম্প? ইরানের চালে দিশেহারা হয়ে শুরু নোংরা গালিগালাজ!

ডোনাল্ড ট্রাম্প— যাঁর স্লোগান ছিল “যুদ্ধ বন্ধ করা”, সেই ট্রাম্পই কি এখন পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক? দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসের মসনদে বসার মাত্র ১৫ মাসের মাথায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের যে রূপ সামনে এল, তাতে আঁতকে উঠছে বিশ্ব। ‘শান্তি দূত’ সেজে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প এখন পরিণত হয়েছেন এক পুরোদস্তুর ‘যুদ্ধবাজ’ নেতায়।
৫ দেশে একযোগে হামলা: ট্রাম্পের রক্তক্ষয়ী রাজনীতি সম্প্রতি ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১৫ মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া এবং সিরিয়াতে সামরিক অভিযান ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ছক থেকে শুরু করে ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে সমন্বিত হামলা— ট্রাম্পের দ্বিতীয় ইনিংস যেন কেবলই বারুদের গন্ধে ভরা।
ইরানের জেদের সামনে দিশেহারা ট্রাম্প! যে ট্রাম্প একসময় নিজেকে সমঝোতার জাদুকর বা ‘আর্ট অফ দ্য ডিল’-এর মাস্টার মনে করতেন, ইরানের অনমনীয় অবস্থানের সামনে তাঁর সেই দম্ভ এখন চুরমার। আর সেই হারের জ্বালা থেকেই ভাষা হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এখন হয়ে উঠেছে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজের আখড়া। প্রতিপক্ষকে ‘পাগল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আস্ত এক সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি— ট্রাম্পের ভাষা এখন অসংলগ্ন ও বিপজ্জনক।
নিজেদের ঘরেই বিদ্রোহ: ট্রাম্পের নিশানায় পুরোনো বন্ধুরা ট্রাম্পের এই ‘যুদ্ধং দেহি’ মনোভাব তাঁর নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর (MAGA) মধ্যেও ফাটল ধরিয়েছে।
-
টাকার কার্লসন বা মার্জোরি টেলর গ্রিনের মতো দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠরা যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প তাঁদের ‘লুজার’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করছেন।
-
বাদ যাচ্ছেন না ব্ল্যাকওয়াটার প্রতিষ্ঠাতা এরিক প্রিন্সও।
সাম্রাজ্যবাদের দাবার ঘুঁটি? বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প আসলে মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন। যে সাম্রাজ্যবাদী যন্ত্রকে তিনি ভাঙতে চেয়েছিলেন, আজ নিজেই তার অংশ। ট্রাম্পের এই আস্ফালন হয়তো তাঁকে সাময়িক শক্তিশালী দেখাচ্ছে, কিন্তু আদতে এটি আমেরিকার জন্য এক কৌশলগত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত।