“আমাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে বিজেপি!” দল ছাড়তেই চরম হেনস্থা রূপাঞ্জনার, বিস্ফোরক ভিডিও ভাইরাল!

রাজনীতিতে দলবদল নতুন নয়, কিন্তু অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রের ক্ষেত্রে তা যেন এক ভয়াবহ মোড় নিল। গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে যে ধরনের আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে, তাতে কার্যত স্তব্ধ টলিউড। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী।

বিস্ফোরক অভিযোগ: ধর্ষণের হুমকি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ রূপাঞ্জনার দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত শকুনের মতো ঘিরে ধরা হয়েছে। অভিনেত্রীর অভিযোগ, শুধু অশালীন গালিগালাজ নয়, তাঁকে সরাসরি ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাদ যাচ্ছেন না তাঁর বৃদ্ধা মা-ও। ট্রোলারদের রুচিহীনতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাঁরা অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারকেও আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না।

বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জ: “সাহস থাকলে সামনে আসুন” ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে রূপাঞ্জনা বলেন:

“আপনারা না দাবি করেন আপনারা নারী সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন? রাত দখল অভিযানে আপনারাই তো নেমেছিলেন। অভয়ার বিচার নিয়ে লম্বা লম্বা কথা বলেন, অথচ একজন মহিলাকে এই ধরনের কুৎসিত আক্রমণ করছেন কোন সাহসে?”

বিজেপি সমর্থকদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁরা নিজেদের বাড়ির মহিলাদের কতটা সম্মান দেন? বাংলা কি তবে উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাটের পথে হাঁটবে? রূপাঞ্জনার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— “কার ক্ষমতা আছে দেখি! সামনাসামনি এসে কথা বলুন।”

মণিপুর ও গুজরাট ইস্যুতে তোপ মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিজেপিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘স্যাডিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন গুজরাট দাঙ্গার ইতিহাস। তাঁর কথায়, ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করে দিল্লি দখল করা দলটির আসল রূপ এখন মানুষের সামনে স্পষ্ট। আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির হানার পর থেকেই বিজেপির ওপর আরও ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আত্মবিশ্বাসী জবাব ট্রোলিংয়ের পালটা জবাবে অভিনেত্রী বেশ শ্লেষাত্মক সুরেই বলেন যে, তিনি সানগ্লাস পরে ছবি তুলতে ভালোবাসেন এবং বিকেলে ঝাড়গ্রামের মুড়ি খেতে পছন্দ করেন। নাম না করে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাত্রার ধরনকেও কটাক্ষ করেন তিনি।

উপসংহার: রূপাঞ্জনা মিত্রের এই ঝাঁঝালো অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলবদল যে কেবল পতাকা পরিবর্তন নয়, বরং ব্যক্তিগত স্তরেও কতটা বিভীষিকাময় হয়ে উঠতে পারে, রূপাঞ্জনার এই অভিযোগ যেন সেই অন্ধকার দিকটিই তুলে ধরল। এখন দেখার, অভিনেত্রীর এই ‘চ্যালেঞ্জ’ গেরুয়া শিবির কীভাবে গ্রহণ করে।