দ্বিতীয় দফার আগে রণক্ষেত্রের মেজাজে কমিশন! ধনধান্য অডিটোরিয়ামে জরুরি বৈঠক থেকে এল কড়া নিদান

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। রবিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে পুলিশ এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের রীতিমতো ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিল কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গাফিলতি হলে এবার শাস্তি হবে নজিরবিহীন।

পুলিশ আধিকারিকদের ওপর খাঁড়া!

কমিশন সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে কলকাতা পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে বিভিন্ন থানার ওসি এবং আইসি-দের তলব করা হয়েছিল। তাঁদের উদ্দেশ্যে সাফ বার্তা:

  • বিস্ফোরক উদ্ধার: কোনো এলাকায় যদি বিস্ফোরক মজুত থাকে বা উদ্ধার হয়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে জবাবদিহি করতে হবে।

  • ভোটারদের ভয় দেখানো: কোনো দুষ্কৃতী যদি ভোটারদের হুমকি দেয় বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করে, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • শাস্তির হুঁশিয়ারি: দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের তরফে নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

উপস্থিত ছিলেন হেভিওয়েটরা

রবিবারের এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। এছাড়াও কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈঠক।

কেন এই কড়াকড়ি?

আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ ৭ জেলায় ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার ভোট মিটে যাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর আসছিল। দ্বিতীয় দফায় যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে বুথে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ আধিকারিকদের ওপর এই বাড়তি চাপের কৌশল নিল কমিশন।

বিশেষ করে কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে কমিশন যে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে, তা এদিনের বৈঠকেই পরিষ্কার।