পার্সোনাল লোন নিতে গিয়ে এই ভুল করলেই মহাবিপদ! হাতছাড়া হতে পারে টাকা, জেনে নিন বাঁচার উপায়

বর্তমান সময়ে জরুরি প্রয়োজনে পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়া এখন হাতের মুঠোয়। ব্যাঙ্ক হোক বা স্মার্টফোন অ্যাপ— ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা ঢুকে যাচ্ছে অ্যাকাউন্টে। কিন্তু আবেদন করার পদ্ধতি সহজ হলেও, সামান্য কিছু ভুলের জন্য আপনার লোনের আবেদন বাতিল হতে পারে মুহূর্তেই। এমনকি একবার লোন রিজেক্ট হলে তার প্রভাব পড়ে আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলেও।
আবেদন করার সময় যে ভুলগুলো একেবারেই করবেন না:
১. ক্রেডিট রিপোর্ট চেক না করা: অধিকাংশ মানুষ লোন আবেদনের আগে নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করেন না। রিপোর্টে কোনো ভুল তথ্য বা পুরোনো লোন মেটানোর পর আপডেট না হওয়া— এই সব কারণে ক্রেডিট স্কোর কমে থাকে। ফলাফল? সোজাসুজি লোন রিজেকশন।
২. আয়ের উৎস লুকিয়ে রাখা: লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আপনার সমস্ত আয়ের উৎস ঋণদাতাকে জানান। অনেকেই বাড়ি ভাড়া, ফ্রিল্যান্সিং বা সাইড ইনকামের কথা বলেন না। এতে আপনার মোট আয় কম দেখায়, ফলে ব্যাঙ্কের মনে হতে পারে আপনার লোন শোধ করার ক্ষমতা কম।
৩. সামর্থ্যের অতিরিক্ত ঋণের আবেদন: আপনার মাসিক উপার্জনের তুলনায় ইএমআই (EMI) বা কিস্তির বোঝা খুব বেশি হলে ব্যাঙ্ক ঝুঁকি নিতে চায় না। একে বলা হয় ‘ফিক্সড অবলিগেশন টু ইনকাম রেশিও’। নিজের লিমিটের বাইরে গিয়ে লোনের আবেদন করলে তা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।
৪. ঘন ঘন চাকরি বদল: ঋণদাতারা সব সময় আবেদনকারীর উপার্জনের স্থায়িত্ব দেখেন। আপনি যদি বারবার কোম্পানি পরিবর্তন করেন, তবে আপনার আয়কে অনিশ্চিত মনে করা হয়। এতে হয় লোন বাতিল হয়, নতুবা আপনার ওপর আকাশছোঁয়া সুদের হার চাপানো হয়।
৫. ‘ক্রেডিট হাঙ্গার’ বা ঋণের খিদে: একবার লোন রিজেক্ট হলে তৎক্ষণাৎ অন্য ব্যাঙ্কে বা একাধিক সংস্থায় একসঙ্গে আবেদন করবেন না। এতে ব্যাঙ্কের কাছে বার্তা যায় যে আপনি ঋণের জন্য মরিয়া। এই প্রবণতা বা ‘ক্রেডিট হাঙ্গার’ আপনার ক্রেডিট স্কোর মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
সতর্কবার্তা: অসম্পূর্ণ নথি বা ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাড়াহুড়ো না করে সমস্ত শর্তাবলি পড়ে আবেদন করলেই লোন পাওয়ার পথ হবে মসৃণ। মনে রাখবেন, সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও সততাই লোন পাওয়ার আসল চাবিকাঠি।