বেতন নিয়ে বিরাট ধামাকা! ১৫ মিনিট ওভারটাইমেও মিলবে কড়কড়ে নোট, বদলে গেল স্যালারি স্ট্রাকচার

কর্মজীবীদের জন্য বছরের শুরুতেই বাম্পার ধামাকা! ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হওয়া নতুন ‘ওয়েজ কোড’ (Code on Wages) আমূল বদলে দিচ্ছে বেতন এবং কাজের সময়সীমা। এবার থেকে অফিসে নির্ধারিত সময়ের বাইরে পা ফেললেই আপনার ব্যাংক ব্যালেন্সে পড়বে তার ইতিবাচক প্রভাব। এমনকি মাত্র ১৫ মিনিট বাড়তি কাজ করলেও মিলতে পারে দ্বিগুণ পারিশ্রমিক!
ওভারটাইমে ডবল ধামাকা: নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী যদি তাঁর নির্ধারিত শিফটের চেয়ে বেশি সময় কাজ করেন, তবে কোম্পানিকে সাধারণ হারের তুলনায় দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম দিতে হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি ১ ঘণ্টা বাড়তি কাজ করেন, তবে ২ ঘণ্টার সমান বেতন পাবেন।
১৫ মিনিটের ম্যাজিক: সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো ওভারটাইমের সময় গণনার পদ্ধতি।
-
যদি আপনি শিফট শেষ হওয়ার পর ১৫ থেকে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত কাজ করেন, তবে কোম্পানি সেটিকে পূর্ণ ৩০ মিনিটের ওভারটাইম হিসেবে ধরতে বাধ্য থাকবে।
-
এর ফলে সামান্য বাড়তি পরিশ্রমও এখন থেকে আর বৃথা যাবে না।
সাপ্তাহিক কাজের সময় ও শিফট: নতুন ওয়েজ কোডে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো তাদের শিফট ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়াতে পারলেও, কোনোভাবেই সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। করালে দিতে হবে মোটা অঙ্কের ওভারটাইম।
ইন-হ্যান্ড স্যালারিতে কী প্রভাব পড়বে? এখানেই রয়েছে টুইস্ট! নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনার মূল বেতন (Basic Salary) হতে হবে মোট সিটিসি (CTC)-র অন্তত ৫০ শতাংশ।
-
সুবিধা: বেসিক বেতন বাড়লে আপনার পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটির পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যাবে। অর্থাৎ অবসরের পর আপনি অনেক বেশি টাকা পাবেন।
-
অসুবিধা: পিএফ-এ আপনার কন্ট্রিবিউশন বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতন (Take-home Salary) কিছুটা কমতে পারে।
চাকরি ছাড়লে বকেয়া কত দ্রুত? ইস্তফা বা ছাঁটাই— কারণ যাই হোক না কেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কর্মীর সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। বকেয়া মেটানো নিয়ে টালবাহানা করলে আইনি বিপাকে পড়তে পারে সংস্থাগুলো।
কারা বেশি লাভবান? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ‘ব্লু-কলার’ কর্মীদের, যাঁদের দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে হয়। যদিও হোয়াইট কলার বা কর্পোরেট চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে ওভারটাইম পে সব সময় প্রযোজ্য হয় না, তবে তাঁদের রিটায়ারমেন্ট সেভিংস বা পিএফ ফাণ্ড আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।
কেন্দ্রীয় এই কাঠামো তৈরি হলেও, রাজ্যভেদে এটি কার্যকর হওয়ার সময় কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে দেশের শ্রম বাজারে এটি যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।