অলি-গলিতে বাইক টহল, মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি! দ্বিতীয় দফার ভোটে নজিরবিহীন সুরক্ষা কমিশনে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজ্যকে। আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার পাড়ার সরু গলিতেও বাইক নিয়ে টহল দেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) ও পুলিশ। আজ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গলিতে বাইক, আকাশে ড্রোন: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
এতদিন বড় রাস্তায় টহল দিলেও এবার পাড়ার ভেতরের অলি-গলিতেও আধিপত্য বজায় রাখতে চায় কমিশন।
-
১৬০টি মোটরবাইক: প্রতিটি বাইকে থাকবেন দু’জন করে সশস্ত্র জওয়ান বা পুলিশ কর্মী। মূলত স্পর্শকাতর এলাকার অলি-গলিতে কড়া নজরদারি চালাবেন তাঁরা।
-
ড্রোনের ব্যবহার: দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে অশান্তির আঁচ পাওয়া মাত্রই অ্যাকশনে নামবে কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
বুথমুখী রাস্তায় বসছে সিসিটিভি
এবারের ভোটে নতুন সংযোজন হলো বুথমুখী ১০০ মিটার রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা। আগে শুধুমাত্র বুথের ভেতরে ও গেটে ক্যামেরা থাকত। কিন্তু ভোটারদের হুমকি দেওয়া বা বহিরাগতদের জমায়েত রুখতে এখন থেকে বুথের সংযোগকারী রাস্তায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করবে কমিশন।
“ভোট দিন নির্ভয়ে”: অভয় দিলেন মনোজ আগরওয়াল
রবিবার সকালে কাকদ্বীপে সর্বদলীয় বৈঠক শেষে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানান:
“ভুয়ো ভোট বা হুমকি—কোনোটাই বরদাস্ত করা হবে না। ভোট দেওয়া আপনার সাংবিধানিক অধিকার। কেউ বাধা দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ পার করুক।”
প্রস্তুত কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা
এদিন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকরা। কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বুথের ১০০ মিটারের ভেতর কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ এই বৃত্তের ভেতর ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই ‘ফুলপ্রুফ’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের মনে কতটা সাহস জোগাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।