বোমা উদ্ধার হতেই মুখ পুড়ল শাসকদলের? ভাঙড়ে বিধায়ক প্রার্থীর অনুগামীর কীর্তিতে চাঞ্চল্য

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের একবার বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। এবার তৃণমূল কর্মী রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ব্যাগভর্তি ১০০টি তাজা বোমা। যা নিয়ে ভোটের বাজারে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বর্তমান ভাঙড় বিধানসভার প্রার্থী শওকত মোল্লার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো বয়ানই এখন বুমেরাং!
এই বোমা উদ্ধার কেন এত বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্য পাচ্ছে? আসলে বহু বছর আগে একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই শওকত মোল্লাকে প্রকাশ্যে ‘বোমা বাঁধার কারিগর’ বলে অভিহিত করেছিলেন। আজ সেই শওকত মোল্লা যখন ক্যানিং পূর্ব ছেড়ে ভাঙড়ের প্রার্থী এবং তাঁরই ঘনিষ্ঠের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধার হচ্ছে, তখন বিরোধীরা সেই পুরোনো মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে।
কী ঘটেছিল ভাঙড়ে?
পুলিশি সূত্রের খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভাঙড়ের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। তল্লাশিতে ঘরের ভেতর থেকে বস্তাভর্তি বোমা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড়ে তৃণমূল এবং আইএসএফ-এর মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তাতে এই বিপুল পরিমাণ বোমা সঞ্চয় বড়সড় কোনো নাশকতার ছক কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
গণতন্ত্র বনাম দুষ্কৃতী রাজ: সরব বিরোধীরা
ঘটনা সামনে আসতেই তোপ দেগেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি:
-
মুখ্যমন্ত্রী যাকে নিজে বোমা তৈরির কারিগর বলেছিলেন, তাকেই প্রার্থী করে তৃণমূল প্রমাণ করেছে তারা গণতন্ত্রে নয়, পেশ পেশীবলে বিশ্বাসী।
-
সমাজবিরোধীরা নির্বাচনী ময়দানে থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ভাঙড়ে বোমাবাজি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোট দিতে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা যথেষ্ট শঙ্কিত।
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম আপাতত পলাতক, তবে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই বোমাগুলো কি বাইরের থেকে আনা হয়েছে নাকি রফিকুলের বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের এই বারুদ-বিস্ফোরণ কি ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।