“আমি মমতার মতো উদার নই, উচিত শিক্ষা দেবই!” অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক!

“আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো উদার নই, অন্যায় করলে উচিত শিক্ষা দিতে জানি।” রবিবার কাটোয়ার জনসভা থেকে এভাবেই বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বেনজির আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কটাক্ষ— প্রতিটি ইস্যুতে এদিন সুর চড়ান তিনি। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশেও।

শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ ও ‘৪ মে’র হুঙ্কার সম্প্রতি রাজ্যে প্রচারে এসে তৃণমূলের ‘গুন্ডা’দের উল্টো করে ঝোলানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তার পাল্টা জবাবে অভিষেক বলেন, “যাঁরা গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ থেকে এসে আমাদের ধমকাচ্ছেন, উল্টো করে ঝোলানোর কথা বলছেন, তাঁদের বলছি— যদি বুকে সৎ সাহস থাকে, ৪ তারিখ কলকাতায় থাকবেন। বেলা ১২টার পর দেখা হবে। কত ধানে কত চাল, তা বাংলার মানুষই বুঝিয়ে দেবে।” “মোদি নিচ্ছে, দিদি দিচ্ছে” এদিন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে অভিষেক বলেন, “দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দেবেন, আর নিলে মোদি নেবেন।” গ্যাস, পেট্রোল থেকে শুরু করে প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম বৃদ্ধির তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র করের বোঝা চাপিয়ে মানুষকে লুটে নিচ্ছে, আর রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

বাঙালির জেদ ও দুর্গাপূজা প্রসঙ্গ বিজেপি নেতাদের মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, “আমাদের মাছ খাওয়া নিয়ে যারা মুঘল বা বাংলাদেশি বলেছিল, এখন ভোট আসতেই তাদের হাতে রুই-কাতলা নিয়ে প্রচার করতে হচ্ছে। এটাই বাঙালির জেদ।” এমনকি দিলীপ ঘোষের পুরনো এক বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যারা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তাদের দিয়েই মা দুর্গার আরাধনা করাব।”

নিজের দলের নেতা ও বিরোধীদের বার্তা অভিষেক এদিন স্পষ্ট করে দেন, শুধু বিরোধীরাই নয়, তৃণমূলের কোনো নেতা যদি জেতার পর মানুষের কাজ না করেন, তবে তাঁকে রেয়াত করা হবে না। ২০২৭-২৮ সালের নির্বাচনে তাঁদের আর টিকিট দেওয়া হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি। অন্যদিকে, ‘বাম থেকে রাম’ হওয়া কর্মীদের কটাক্ষ করে বলেন, নতুন বোতলে পুরনো মদ ভরে কালো দিন ফেরানোর চেষ্টা সফল হবে না।

ভোটের দিন ‘ revenge’ নেওয়ার ডাক আগামী ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কাটোয়াবাসীর উদ্দেশে অভিষেকের আহ্বান, “লাইনের প্রতিশোধ লাইনেই নিতে হবে। এমনভাবে জোড়াফুলের বোতাম টিপুন যাতে দিল্লি আর মধ্যপ্রদেশে ভূমিকম্প হয়।” বিজেপি প্রার্থীদের ‘লুচি ভাজা’ বা ‘চুল কাটা’র প্রচারকে নাটক বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ৪ তারিখের পর এদের আর অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।