বিয়ের আসরেই রক্তারক্তি! বরের ওপর চড়াও কনের ভাইয়েরা, মণ্ডপেই রাতভর অপেক্ষায় বসে রইলেন কনে

উত্তর প্রদেশের জালাউন জেলার ওরাই শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ভয়াবহ রূপ নিল। ‘দ্বারচার’ আচারের সময় বরের পক্ষের ওপর হঠাৎ চড়াও হলো কনের আত্মীয়রা। হামলায় বর, তাঁর বাবা এবং ভাই-সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একদিকে কনে বিয়ের সাজে মণ্ডপে সারারাত অপেক্ষায় বসে রইলেন, আর অন্যদিকে বরের পরিবার বিচার চেয়ে বিয়ে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল।
সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে চরম আক্রোশ
ঘটনার সূত্রপাত হয় ওরাইয়ের অষ্টিকা গেস্ট হাউসে। তিরাহির বাসিন্দা প্রদীপ কুমার পালের ভাইয়ের সঙ্গে অখিলেশ সিং পালের মেয়ের বিয়ে হচ্ছিল। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন আগে ‘তিলক’ অনুষ্ঠানের সময় দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। কনের বাড়ির পক্ষকে শুধু বলা হয়েছিল, বরযাত্রীদের জন্য যেন যথাযথ আতিথেয়তার ব্যবস্থা থাকে। এই সামান্য মন্তব্যকেই সম্মানের লড়াই বানিয়ে নেয় কনের মামাতো ভাইয়েরা।
দ্বারচার আচারের মাঝেই হামলা
শনিবার রাতে যখন বিয়ের মিছিল আসরে পৌঁছায়, তখন হঠাৎ ১০ থেকে ২০ জন যুবক কোনো কারণ ছাড়াই বরের পক্ষের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগের তির কনের মামার ছেলে অবধেশ, মালখান, সন্তোষ-সহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে। প্রদীপ কুমার পাল জানান, হামলাকারীরা তাঁর বৃদ্ধ বাবা এবং বরের ভাইকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করে। বরকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। ঘটনায় চার-পাঁচজন অতিথিও আহত হন।
মণ্ডপে কনে, হাসপাতালে বর
এই নৃশংস ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বরপক্ষ জানিয়ে দেয়, অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এবং আহতদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিয়ের কোনো আচার পালন করবে না। ফলে সারারাত বরের অপেক্ষায় মণ্ডপে বসে থাকেন কনে। গেস্ট হাউসে খুশির পরিবেশ মুহূর্তে আতঙ্কে বদলে যায়।
পুলিশি পদক্ষেপ
খবর পেয়ে ওরাই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওরাই থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আনন্দ কুমার সিং জানিয়েছেন, “অভিযোগ জমা পড়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিলক অনুষ্ঠানের সেই সামান্য মনোমালিন্য যে একটি পরিবারের জীবনে এমন কালো ছায়া ফেলবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।