ভোটের সকালেই কলকাতায় ইডির হানা! সোনা পাপ্পু কাণ্ডে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা রোড শো ঘিরে শহর কলকাতায় সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই সাতসকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) হানায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালো মহানগরীতে। রবিবার ভোর থেকেই কলকাতার আনন্দপুর ও আলিপুর-সহ মোট তিনটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলার গভীরে পৌঁছানো।

তদন্তের নিশানায় দুই হেভিওয়েট ব্যবসায়ী
ইডি সূত্রে খবর, এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে সোনা পাপ্পু মামলার ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদার। সম্প্রতি ইডির জালে ধরা পড়া জয়ের বয়ান এবং তাঁর বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল ফোনের কললিস্ট খতিয়ে দেখেই এই নতুন নামগুলি উঠে এসেছে। রবিবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ একাধিক তদন্তকারী দল দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে জয়ের সঙ্গে তাঁদের কোনও গোপন বিনিয়োগ বা আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না।

সোনা পাপ্পু ও ডিসিপি কানেকশন!
উল্লেখ্য, বালিগঞ্জের একটি গোলমালের ঘটনায় প্রথম সামনে এসেছিল ‘সোনা পাপ্পু’র নাম। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইতিমদ্যেই একটি পিস্তল ও বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। যদিও সোনা পাপ্পু এখনও ফেরার। এই মামলার তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DC) শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের সঙ্গেও ধৃত জয় কামদারের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

ভোটের আবহে রাজনৈতিক চাপানউতোর
আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার কলকাতার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। ঠিক তার আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর তরজা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনেই এই তল্লাশি নিছকই প্রশাসনিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর ফলে আরও বড় কোনও নাম প্রকাশ্যে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর শহরবাসীর।