থানাই যখন অসুরক্ষিত, আমরা কোথায় যাব? নোয়াপাড়ায় পুলিশের নাকের ডগায় বিস্ফোরণে তীব্র আতঙ্ক!

ভোটের মাত্র কয়েকদিন বাকি, তার আগেই খোদ থানার ভেতর ভয়াবহ বিস্ফোরণ! শনিবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া থানা চত্বরে এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বোমার স্প্লিন্টার উড়ে গিয়ে পড়েছে লাগোয়া বাড়ির ছাদে ও উঠোনে। সুরক্ষিত থানা চত্বরে এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কী ঘটেছিল নোয়াপাড়ায়?

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বেলা ১২টা নাগাদ আচমকাই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে নোয়াপাড়া এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শব্দের উৎস ছিল স্পষ্টতই থানার ভেতর। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বোমার টুকরো আশেপাশের বাড়ির উঠোনে গিয়ে পড়ে। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ বাঁশফোড়ের ক্ষোভ, “আমাদের বাড়ির পাশেই থানা। হঠাৎ ঘর কেঁপে উঠল। ছাদে বোমার টুকরো পড়ে আছে। থানার ভেতর যদি বোমা ফাটে, তবে আমরা কোথায় নিরাপদ?”

ভোটের মুখে রহস্য ও নীরবতা

আগামী ২৯ এপ্রিল নোয়াপাড়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট। এই কেন্দ্রে হেভিওয়েট লড়াই বিজেপির অর্জুন সিং বনাম তৃণমূলের প্রার্থীর মধ্যে। ভোটের ঠিক আগে এমন ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় খোঁজ নিতে গেলে পুলিশ কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা:

  • থানার মতো হাই-সিকিউরিটি জোনে বিস্ফোরক এল কীভাবে?

  • আগে থেকে বাজেয়াপ্ত করা কোনো বিস্ফোরক থেকেই কি এই দুর্ঘটনা?

  • নাকি এর পেছনে বড় কোনো নাশকতার ছক ছিল?

পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বয়ান পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের মুখে এই বিস্ফোরণ যে প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, রহস্যের এই কালো ধোঁয়া কত দ্রুত কাটাতে পারে পুলিশ।