ভোটের মুখে মমতার গলায় চরম হুঁশিয়ারি! “আমার কেন্দ্রে বাস ঢোকালে আমি ছাড়ব না”, বিস্ফোরক দিদি

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আর তার মধ্যেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার প্রতিবাদের ভাষা ছিল চিরাচরিত সুরের থেকে কিছুটা আলাদা। মেজাজি ভঙ্গিতে তিনি জানালেন, বহিরাগতরা এলাকায় এলেও তাদের ‘মিষ্টি খাইয়ে’ আপ্যায়ন করেছেন তিনি।

ঠিক কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? শনিবার বিকেলে এক নির্বাচনী সভা থেকে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ শানান মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম দফার ভোটের পর এবার দ্বিতীয় দফার আগে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বাইরে থেকে লোক ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন:

“কাল আমার কেন্দ্রেও (ভবানীপুর) কয়েকটা বাস ঢুকেছিল। আমি জানি ওরা কোথা থেকে এসেছে। খুব ভালো করে ওদের মিষ্টি খাইয়েছি। আমি বলেছি, আপনারা এসেছেন অতিথি হয়ে, মিষ্টি খান আর চলে যান। এখানে দাদাগিরি চলবে না।”

রাজনৈতিক সমীকরণ ও হুঁশিয়ারি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘মিষ্টি খাওয়ানো’র মন্তব্যের গভীরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড়সড় হুঁশিয়ারি দেখছেন। তাঁদের মতে, নাম না করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বহিরাগতদের গতিবিধির ওপর তাঁর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করেও তিনি বার্তা দেন যাতে সীমানা এবং বুথ স্তরে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।

বিরোধীদের পাল্টা কটাক্ষ: মমতার এই মন্তব্যের পাল্টায় বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা কটাক্ষ করে বলেন, “হারের ভয়ে দিদিমণি এখন আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষ যখন ভোট দিতে আসছেন, তখন তাঁদের বহিরাগত তকমা দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।”

কেন এই উদ্বেগ? দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ। তার আগে শাসকদলের এই অভিযোগ এবং ‘মিষ্টি’ রাজনীতির লড়াই যে বুথ পর্যন্ত গড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই মিষ্টির টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ শেষ পর্যন্ত কার ভোটবাক্সে পড়ে।