সীমান্ত পেরিয়েই কি বদলে যাবে ভোটের ফল? দ্বিতীয় দফায় ‘বাগড়া’ দেওয়ার আশঙ্কায় তোলপাড় বনগাঁ!

দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক বড়সড় আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে এল সীমান্ত ঘেরা বনগাঁয়। নির্বাচনের দিন কি তবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীরা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেবে? এমনই এক বিস্ফোরক আশঙ্কার কথা শোনালেন বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক আগরওয়াল। তাঁর মতে, অরক্ষিত এবং খোলা সীমান্তই হতে পারে দ্বিতীয় দফার ভোটের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ।

কেন এই সতর্কতা? বনগাঁ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার সীমান্ত এখনও পুরোপুরি কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা নেই। এই ‘ছিদ্র’ বা খোলা অংশগুলি ব্যবহার করে অবৈধ প্রবেশ বা সীমান্তপার থেকে দুষ্কৃতীদের আসার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সব খোলা সীমানা ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

আশঙ্কার কেন্দ্রবিন্দুতে বনগাঁ: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় বনগাঁর ওপর কড়া নজর রাখছে কমিশন। কিন্তু বিএসএফ কর্তার এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে— পর্যাপ্ত বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কি অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে? সূত্রের খবর, ওপার থেকে উস্কানি আসার এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার একটা সূক্ষ্ম ছক কষা হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: আগরওয়ালের এই আশঙ্কার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সীমান্তে ড্রোন দিয়ে নজরদারি এবং টহলদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও স্পর্শকাতর বুথগুলিতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: এই খবর সামনে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তর্জা। বিরোধীদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করে ভোট লুঠের চেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, কড়া নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

এখন দেখার, এই ‘খোলা সীমান্ত’ কি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বড় কোনো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় কি না।