হুইসেল বাজিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে ফের ছুটবে ‘কয়লার ইঞ্জিন’! শতাব্দী প্রাচীন লোকোমোটিভের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

আধুনিক হাই-স্পিড বন্দে ভারত আর বুলেট ট্রেনের যুগে দাঁড়িয়ে ইতিহাসকে আরও একবার ছুঁয়ে দেখল ভারতীয় রেলওয়ে। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো একটি বিলুপ্তপ্রায় বাষ্পচালিত লোকোমোটিভকে (Steam Locomotive No. 801-B) সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কেবল রেলের ইতিহাস সংরক্ষণ নয়, বরং পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।
লোকোমোটিভের নেপথ্য ইতিহাস: সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এই ঐতিহাসিক ৮০১-বি লোকোমোটিভটি ১৯২৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে ‘মেসার্স নর্থ ব্রিটিশ লোকোমোটিভ কোম্পানি লিমিটেড’ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে পাহাড়ি পথে মালপত্র ও যাত্রী পরিবহনের জন্য এটি ছিল অপরিহার্য। সময়ের সাথে সাথে আধুনিক ইঞ্জিনের দাপটে এই বাষ্পচালিত ইঞ্জিনটি অবসরে চলে গিয়েছিল।
অসাধ্য সাধন রেল ইঞ্জিনিয়ারদের: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানদের নিরলস পরিশ্রমে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অকেজো পড়ে থাকা এই ইঞ্জিনের প্রতিটি যন্ত্রাংশ মেরামত করে সেটিকে ফের সচল করা হয়েছে। বর্তমানে এটি সফলভাবে ট্র্যাকে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করেছে।
কেন এই উদ্যোগ? রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এটি কেবল একটি ইঞ্জিন নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের রেল প্রকৌশলের এক গর্বিত নিদর্শন।
-
পর্যটন আকর্ষণ: এই বাষ্পচালিত ইঞ্জিনকে হেরিটেজ ট্যুরিজমের কাজে ব্যবহার করা হবে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
-
তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান: নতুন প্রজন্ম যাতে বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের কার্যকারিতা সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এটিকে সচল রাখা হয়েছে।
রেল আধিকারিকের বক্তব্য: “এটি আমাদের রেল ঐতিহ্যের প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই ইঞ্জিনটি এখন কেবল স্থির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে ট্র্যাকে জীবন্ত হয়ে উঠবে।”