“পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলে গিয়েছে!”-জেনেনিন কোন ইঙ্গিত দিচ্ছেন দিলীপ?

ভোট মিটলেই বদলে যাবে চেনা সমীকরণ? দুই দফার নির্বাচন শেষ হতে না হতেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এতদিন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব থাকলেও, এবার তাঁর মুখে শোনা গেল উল্টো সুর। বিশেষ করে ‘পুলিশের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছে’— দিলীপবাবুর এই পর্যবেক্ষণ এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয়।
‘ভ্যানিশ কুমার’ বনাম ‘ভ্যানিশ হওয়ার পথে’
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একসময় ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, “যাঁরা এতদিন কমিশনারকে উপহাস করেছেন, নির্বাচনের এই হাওয়ায় তাঁরাই এখন ভ্যানিশ হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।” নির্বাচন পরিচালনায় কমিশন যে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে, তার জন্য তিনি কমিশনকে পূর্ণ নম্বর দিয়েছেন।
পুলিশের ভোলবদল: বড় কোনো সংকেত?
এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের কাজ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকতে চায়, তবে তারা কতটা দক্ষ হতে পারে, এবারের ভোট তার প্রমাণ। তিনি বলেন, “পুলিশের শরীরী ভাষা এখন আলাদা। তাঁরা এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং সেটা করছেনও। পুলিশের এই বদলে যাওয়া মেজাজই ভবিষ্যতে বাংলায় বড় কোনো রাজনৈতিক বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
ইস্যুহীন শাসক দল?
শাসক দলকে আক্রমণ করে বিজেপি-র এই অভিজ্ঞ নেতা বলেন, দীর্ঘ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও এবারের নির্বাচনে তাদের কাছে মানুষের জন্য কোনো প্রকৃত ইস্যু ছিল না। ভোটার তালিকায় ‘এসআইআর’ (SIR) সংস্কার নিয়ে বিরোধিতা কিংবা কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ— কোনো কিছুই ধোপে টেকেনি। তাঁর মতে, কমিশন নিজের অবস্থানে অনড় ছিল বলেই ভুঁয়ো ভোটারের দাপট কমানো সম্ভব হয়েছে।
নির্বাচনের দুই দফার শেষে দিলীপ ঘোষের এই চনমনে ভাব এবং পুলিশের কাজের প্রশংসা কি কেবলই কৌশলগত, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর। তবে আপাতত দিলীপের ‘ভ্যানিশ’ দাওয়াই আর পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ তত্ত্ব নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।