বিরাট বিদ্রোহ আম আদমি পার্টিতে! সাত সাংসদকে নিয়ে পদ্ম শিবিরে রাঘব চাড্ডা, দলবদলের আসল কারণ কী?

লোকসভা নির্বাচনের আবহে জাতীয় রাজনীতিতে সবথেকে বড় ভূমিকম্প। অরবিন্দ কেজরীবালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তরুণ তুর্কি রাঘব চাড্ডা আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। তবে তিনি একা নন, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সাংবাদিক বৈঠক করে রাঘব এক বিস্ফোরক ঘোষণা করেন—তাঁর হাত ধরে আরও ৬ জন আপ সাংসদ নাম লেখালেন বিজেপিতে।
তালিকায় বড় চমক অশোক মিত্তল:
এই দলবদলের সবথেকে বড় চমক হলেন অশোক মিত্তল। কয়েক দিন আগেই রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় অশোক মিত্তলকে বসিয়েছিল আপ নেতৃত্ব। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেখা গেল উল্টো ছবি। যাঁর হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেই মিত্তলই এখন রাঘবের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে। সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই সাত সাংসদ দলবদল করেছেন বলে খবর।
কেজরীবালের চেষ্টা কি ব্যর্থ?
রাজনৈতিক মহলের খবর, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও বাকি ৬ সাংসদকে দলে ধরে রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল। তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও, সাংসদরা দেখা করতে অস্বীকার করেন এবং সরাসরি ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। নিজের এক সময়ের ‘প্রিয় পাত্র’ রাঘবকে ফেরানোর কোনো চেষ্টাই অবশ্য কেজরীবাল করেননি বলে সূত্রের দাবি।
কেন এই বিদ্রোহ?
বিগত বেশ কিছু সময় ধরেই দলের সঙ্গে রাঘব চাড্ডার সংঘাত চরমে উঠেছিল। রাঘব যখন দাবি করেছিলেন যে তিনি জনস্বার্থের কথা বলছেন, তখন দলের পাল্টা অভিযোগ ছিল যে রাঘব কেবল নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ব্যস্ত। বিশেষ করে কেজরীবালের গ্রেফতারির সময় রাঘবের লন্ডনে অবস্থান করা নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই সময় বিজেপি রাঘবকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিলেও আজ সেই জল্পনাই বাস্তব রূপ নিল।
দিল্লির মসনদে কি টান পড়বে?
একসঙ্গে ৭ জন সাংসদ পদত্যাগ করায় দিল্লির রাজনীতিতে আপ এখন বড়সড় অস্তিত্ব সংকটের মুখে। একদিকে শীর্ষ নেতাদের জেল হেফাজত, অন্যদিকে রাজ্যসভার সাংসদদের এই গণ-বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে আম আদমি পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাঙন কেজরীবালের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।